বাকশালের উদ্বোধনী ভাষণ ১ম খণ্ড | বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ডঃ  বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে দলীয় চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে ভাষণ দেন তা এখানে উদ্বৃত হলো ।

আজকে প্রথম দিন আমরা বসেছি সকলের সাথে দেখাশোনা করবার জন্য_ যাকে বলা হয় গেট টুগেদার । যাতে আমরা মেম্বার যারা রয়েছি, সকলে একসাথে বসতে চাই, সকলকে যেন চেনা যায়, আলোচনা করা যায় এবং জানা যায়, কি অবস্থা ।

 

বাকশালের উদ্বোধনী ভাষণ ১ম খণ্ড | বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড

 

বাকশালের উদ্বোধনী ভাষণ ১ম খণ্ড | বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ

 

শিগগিরই এসেম্বলি সেশন হবে। বাজেট সেশন । আগস্ট মাসে সেন্ট্রাল কমিটির বৈঠক বসবে। একদিন দু’দিনের নয়, দরকার হলে পাঁচ সাত দিনের জন্য বসবে এবং সেই সেন্ট্রাল কমিটির মিটিংয়ে বিভিন্ন এজেন্ডা দেওয়া হবে। সেই এজেন্ডা অনুযায়ী কনফারেসকে ভাগ করে কতকগুলো সাব-কমিটি বা কমিশন করে দেওয়া হবে। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট এবং বাইরের কাউকে যদি দরকার হয় তাদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে একটি প্রপোজাল সাবমিট হবে করফারেনসের কাছে। যেমন ফুড, এগ্রিকালচারাল, ইন্ড্রাস্ট্রি, ফ্লাড কন্ট্রোল, এডুকেশন ইত্যাদি।

বিভিন্ন সাবজেন্টের সাব কমিটি করে তাদের কাছে ভার দেওয়া হবে। রেসপেষ্টিভ মিনিস্টার সেখানে থাকবেন। সরকারি কর্মচারীরা থাকবেন। যদি দরকার হয়, বাহির থেকে- যারা আমাদের কমিটি মেম্বার নন, কিন্তু যারা কক্ট্রিবিউট করতে পারেন, তাদের আমরা ইনভাইট করতে পারবো । সেখানে বসে কতটুকু কি করা হয়েছে, কতটা ভূল হয়েছে, কি ক্রুটি হয়েছে বা কি করলে আমরা দেশের ইমপ্রুভমেন্ট করতে পারবো, সে সম্পর্কে সাজেশন দিলে তখন সেন্ট্রাল কমিটি থেকে এটা প্রস্তাব করে গভর্ণমেন্ট সেই অনুযায়ী ২২১

তাদের কাজকর্ম করবেন। এই আমাদের ইচ্ছা । আগষ্ট মাসে একটা ফুল এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করা। আপনাদের কাছে বক্তৃতা করে বোঝানোর দরকার নাই। তবে এটুকু বলতে পারি, কেন আমরা এ নতুন পদ্ধতি সৃষ্টি করলাম আর কেনই বা আমরা একে বিপ্লব বললাম। সেদিন ডক্টর এনামুল হক সাহেবের একটা লেখা পড়লাম । তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ যে স্বাধীন হয় নাই, সেকথা সত্য নয়। বাংলাদেশ অনেকবার স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতা রাখতে পারে নাই। বিদেশীদের ডেকে আনতে হয়েছে, ডেকে এনেছে এই বাঙালিরাই । কথাটা আমার মনে লাগল । কিন্তু আমি তো তার মতো শিক্ষিত নই।

তিনি তো আমার চেয়ে অনেক গুণীজন, গুরুজন । তাকে আজো ভক্তি করি আমি। আমি যা চিন্তা করতাম বা ইতিহাসে যা পড়েছি, তা তার কথা পড়ে আমি কনর্ফাম করলাম । আজকে স্বাধীনতার পরে বিনা কারণে এইভাবে সিস্টেম চেঞ্জ করি নাই। বাংলাদেশে নির্বাচন দিয়েই ৯৭ পারসেন্ট সীটস, আউট অব থি হানড্রেড ফিফটিন, থ্রি হানড্রেড সেভেন সীটস আমাদের পার্টি আওয়ামীলীগের ছিল। যদি তারপরেও ইলেকশন দিতাম, এখনো বিশ্বাস করি দুই এক পারসেন্ট বাদ যেতেও পারে, কিন্তু নব্বই পারসেন্টের কম পাবে না আমাদের পার্টি। সেজন্য এই সিস্টেমে ক্ষমতাচ্যুত হবার সম্ভাবনা আমাদের অনেক দিন ছিল না, যদি ক্ষমতায় থাকতে চাইতাম ।

আর ক্ষমতার জন্য রাজনীতি যদি করতাম, তাহলে আমরা অনেকবারই ক্ষমতায় আসতে পারতাম । যদি নিগোশিয়েসন বা আপোসে আমরা ক্ষমতা চাইতাম, তাহলে কেন আমরা এই পরিবর্তন করলাম । – আজ দুনিয়ার দিকে আমাদের চাইতে হবে । স্বাধীনতার পর আমাদের কি দশা হলোঃ ধ্বংসন্তপের মধ্যে আমরা স্বাধীনতা পেলাম এবং রক্তের বিনিময়ে পেলাম। সাড়ে ৭ কোটি লোক, ৫৪ হাজার স্কয়ার মাইল । সম্পদ বলতে কোন পর্দাথ আমাদের ছিল না। সমস্ত কিছু ধ্বংস

আমরা কিন্তু চেষ্টা করলাম যে, ঠিক আছে। একদম যাকে বলে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে দিলাম । করো । বাধা নাই, ফ্রি হ্যান্ড। বছরের মধ্যে তাদের কেউ পল্টন ময়দানে দাড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে গালাগালি না করে ফিরে গেছেন। এ আমার জানা নাই বিশ-পচিশ বছরের মধ্যে । কিন্তু তাও বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বললাম, যদি কিছু ভালো কথা বলতে চাও বলো। যদি দেশের মঙ্গল হয়, বলো। কিন্তু দেখতে পেলাম কি? আমরা যখন এই পন্থায় এগুতে শুরু করলাম, বিদেশী চক্র এ দেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো ।

তারা এ-দেশের স্বাধীনতা বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করল এবং ফি স্টাইল শুরু হয়ে গেল। হুড়হুড় করে বাংলাদেশে অর্থ আসতে আর্ত করলো । দেশের মধ্যে শুরু হলো ধ্বংস, একটা ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপ । এ ছাড়াও আরো দেখা গেল, যাদের আমরা এ সমস্ত ভোগ করতে বলেছি- বাবা, ঠিক আছে, পাচ বছর পরে ইলেকশন হবে, ইলেকশন করো। ইলেকশন যদি ডিফিট খাই, আর একজন এসে বসবে ।

 

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড

 

হাইকোর্টের একজন এক্স-জর্জ ইদরিস সাহেবকে ইলেকশন কমিশনার করা হয়েছিল। তাকে আমি ইলেকশনের ব্যাপারে বলেছি, কোন কথা নাই। যা ভালো বুঝবেন, তাই করবেন আপনি, ফি ফেয়ার ইলেকশন হবে। যারা হলো। যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে যুদ্ধ করেছেন, দেশত্যাগ করেছেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে যাদের সম্পর্তি- তাদের রাতের অন্ধকারে হত্যা করা, হলো । মোট কয়েক হাজার কর্মীকে হত্যা করা হলো, যারা নিঃস্বার্থভাবে যুদ্ধ করেছে, মুক্তিবাহিনীর ছেলে- তাদের হত্যা করা হলো। চরম যড়যন্ত্র।

এতো অস্ত্র উদ্ধার করি, তবু অস্ত্র শেষ হয় না। এই রাজনীতির নামে হাইজ্যাক, ওই রাজনীতির নামে ডাকাতি, টেলিফোন করে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে বা মানুষের বাড়িতে গিয়ে গহনা কেড়ে নেয় রাজনীতির.নামে, একটা ফ্রি স্টাইল শুরু হয়ে গেল। নব্য কিছুদিন আগে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটা দেশে এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। পিপল-এর মধ্যে যে ডিমরালাইজিং ইফেক্ট হয়, তার ফল খুব খারাপ হয়।

আমরা জানি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। আমরা জানি, বন্যা হয়েছে, এক কোটি লোক চলে গিয়েছিল, তারা ফিরে এসেছে, তাদের রিহ্যাবিলিটেশন দরকার । ওয়ার্ড ইনফ্লেশন, যা আমার হাতে আপনার হাতে নয়_ জিনিসের দাম বেড়ে গেল। ড্রাফট হলো বাংলাদেশে, এই সাউথ-ইস্ট এশিয়াতে। ফ্লাড এলো। সাড়ে ৭ কোটি লোক, ২০০ বছরের গোলামি, অর্থনৈতিক কাঠামো নাই। সেন্ট্রাল গভর্ণমেন্ট বলে কোন গভর্ণমেন্ট নাই, সব কিছু রয়েছে ইসলামাবাদে । একটা প্রভিন্সিয়াল গভর্ণমেন্ট ছিল, ছোটখাটো ।

তাও নয় মাসে আর্মি কক্ট্রোলে নিয়ে নিলো। তাদের স্ট্রাকচার ধ্বংস করে দিলো । নাই একটা ফরেন অফিস, নাই একটা প্ল্যানিং অফিস, নাই একটা কোন কিছু । আমাদের সব কিছু আরম্ভ করতে  হয়েছিল গোড়া থেকে । এই সুযোগ আমাদের যারা স্বাধীনতার নামে অনেক চেষ্টা করেছিল, নিজেদের একটা বেজ করা যায় কিনা, ভবিষ্যতে তাদের স্টুজ রা এ-দেশে সরকার চালাতে পারে কিনা, তারা তার ফিকির খুজতে লাগলো । বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে এবং আগে যে পলিসি আমরা

নিয়েছি, বৈদেশিক নীতি, বাংলাদেশের মানুষ, শিক্ষিত সমাজ এবং দুনিয়া এটাকে গ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। আমরা নন-এলায়েড, আমরা ইন্ডিপোন্ডেট ফরেন পলিসিতে বিশ্বাস করি, আমরা পিসফুল কো-এক্সিসটেনস-এ বিশ্বাস করি। আমরা দুনিয়ার নির্যাতিত পিপলের সাথে আছি, আমরা কারো সাথে শত্রতা করতে চাই না। আমরা সকলের সাথে বন্ধুতু করতে চাই । আমরা আন্ডার ডেভেলপড কান্ট, আমরা বিশ্বে শান্তি চাই । আমরা কারো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আমাদের ব্যাপারে কেউ হস্তক্ষেপ করুক এটা আমরা চাই না। আমরা চায়। এই পলিসি সকলেই, প্রায় হোল ওয়ার্ড পছন্দ করলো ।

আমার দেশবাসী এতে সমর্থন জানাল। আমরা মনে করি, আমাদের বৈদেশিক নীতি সম্পূর্ণরূপে সাক্সেসফুল হয়েছে। আজ আমরা-নন-এলায়েনড কান্ট্রিতে আছি, আজ আমরা ইসলামিক সামিট-এ আছি, আজ আমরা কমনওয়েলথ-এ আছি, আজ আমরা ইউ.এন.ও তে আছি। ইউ.এন.ও-র চার্টারে বিশ্বাস করি। আমরা সকলের সাথে বন্ধৃত্‌ করতে চাই। ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স-এ আমাদের প্রয়োজন নাই। এতে আমাদের কোন স্বার্থ নাই। যেখানে কোন অপ্রেসড ইন্টারন্যাশনাল পিপল থাকবে, আমরা তাদের মরাল সমর্থন দিতে পারি এবং দেব।

যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা দেব। আমরাও অপ্রেসড পিপল। আমরাও যুগ যুগ ধরে এটার সাথে পরিচিত। আমরাও মার খেয়েছি। দুনিয়ার শোষকগোষ্ঠী, ইম্পিরিয়ালিস্ট পাওয়ার- আমাদের সম্পদ লুট করে নিয়েছে। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি । আমাদের স্বজন হারানো অর্থ কি? এর অর্থ হলো, আমাদের অর্থনীতির মালিক আমরা এবং আমাদের দেশ সেই সম্পদ ভোগ করবে । পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্ব করবার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা এতো রক্ত দিয়েছি, এতো আমরা আঘাত পেয়েছি, এতো আমাদের আমাদের রাস্তা-ঘাট ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও আমরা বলেছি, আমরা সকলের সাথে বন্ধৃতু চাই।

১৯৫ জন- যারা কমিটেড ক্রাইম এগেইনস্টি হিউম্যানিটি, তাদের পর্যস্ত আমরা মাফ করে দিলাম উদ্দেশ্য এই ছিল যে, আমরা এ-দেশে সাউথ-ইস্ট এশিয়া, পারটিকুলারলি সাব-কন্টিনেন্টে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে এ-দেশে ডেভেলপমেন্টের কাজ করবো । আমাদের এটেনশান থাকবে মানুষের মঙ্গল করা, দেশকে গড়া। কিন্তু পাকিস্তান, দুঃখের বিষয়, একটা পয়সা পর্যন্ত দিল না। আমরা ছিলাম ৫৬ পারসেন্ট পপুলেশন, কেন্দ্রীয় সরকারের কোন সম্পদ আমাদের ছিল না। ফরেন এক্সচেঞ্জ রির্জাভ আমাদের দিল না। গোল্ড রিজার্ভ আমাদের দিলো না।

আমাদের কোন একটা জাহাজ দিলো না। কোন কিছুই তারা আমাদের দিল না। আমরা আমাদের দিক দিয়ে শত চেষ্টা করেছিলাম । কিন্তু তারা এগিয়ে এলো না। দ্যাটস অল রাইট। মাটি আছে, মানুষ আছে, দেশ আছে। ইনশাল্লাহ, কষ্ট হয়েছে আমার মানুষের, না খেয়ে মরেছে সত্য কথা; কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে যে সম্পদ আছে, যদি গড়তে পারি, অনেস্টলি কাজ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের কষ্ট একদিন দূর হয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চেষ্টা করছিলাম, আমরা এখন পর্যন্ত চেষ্টা করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা এগুচ্ছে না। কারো সঙ্গে দুশমনি নাই ।

 

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড

 

চায়না রিকগনিশন দিলো না। কিন্তু আমরা চায়নার সাথে বন্ধুত্‌ চাই। তারা একটা বিগ কান্টি। আমরা এখনো বন্ধুত্ব চাই। আমাদের সাথে বন্ধৃতু আছে রাশিয়ার, আমার বন্ধৃত আছে ভারতবর্ষের সাথে, আমার বন্ধৃত আমেরিকার সাথে । এ বন্ধুত্ব সকলের সাথে চাই। আমরা কারো সাথে গোলমাল করতে চাই না। কারণ, আমি আমার দেশকে গড়তে চাই । এই পলিসিতে আজ পর্যন্ত আমরা এগিয়ে চলেছি। কিন্তু দেশের মধ্যে এজেন্সি শুরু হয়ে গেল। বহুদিন রাজনীতি করেছি।

১৮বছর বয়স থেকে । তখন বোধহয় ১৯৩৮ সাল। তারপর চোঙ্গা মুখে দিয়ে রাজনীতি থেকে আজ এ-পর্যস্ত এসেছি । আমি বলতে চাই না যে, আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্যেছি। সাধারণ মানুষ থেকে আমি চোঙ্গা ফুকেছি, সাইকেলে ঘুরেছি, গ্রামে গ্রামে ঘুরে রাজনীতি করেছি। আমি জানি, একটা খবরের কাগজ চলতে পারে না- যদি আযাডভারটাইজমেন্ট না পায়। বছরের পর বছর এই টাকা কোন পলিটিক্যাল পার্টি ব্যয় করতে পারে বলে আমার জানা নাই।

আর আমি হলাম বিগেষ্ট পলিটিক্যাল পার্টি লিডার । আমি দেশে একটা পার্টি গড়ে তুলেছি এবং চালিয়েছি, যেটা নাম্বার ওয়ান পলিটিক্যাল পার্টি অব বাংলাদেশ, কিন্ত আমি একটি ডেইলি কাগজ চালাতে পারিনা । অর্ধেক ভাগ করেন তার মানিক ভাই। বরং মানিক ভাইয়ের এবিলিটি এবং এক্সপেরিয়েস ছিল, ইত্তেফাক কাগজ চালাতেন তিনি। তা থেকে আমাদের সমর্থন করতেন। অথচ এই তিন বছরের মধ্যে দেখা গেল, এমন কাগজও চললো, যে কাগজ বছরে এক ইঞ্চি আযাডভারটাইজমেন্ট পায় নাই।

কিন্তু একটা কাগজ করতে মাসে কমপক্ষে এক লাখ, সোয়া লাখ, দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। আজকে এই টাকা তারা কোথা থেকে পায়? কে দেয় তাদের এই টাকা, কোথা থেকে আসে? তারপর ইন্ডান্টিয়ালিস্ট বলতে যে পদার্থ বাংলাদেশে আছে, তাদের এতো টাকা আছে বলে আমার জানা নেই। ছিল কিনা, তাও জানি না। এখন কিছু লোক নতুন টাকার মানুষ হয়েছে। কিন্তু ইন্ভান্ত্রি তো আমরা নিয়ে নিলাম। দেখা গেল যে, বিদেশের কিছু কিছু জায়গা থেকে পয়সা পেয়ে তারা দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, গোলমাল সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় কথা হলো, আমরা এই সিস্টেম ইন্ট্রোডিউস করলাম কেন? এই যে আমাদের সমাজ এখানে দেখতে পাই- আমি অনেক চিন্তা করেছি, বহুদিন কারাগারে একলা বসে বসে চিন্তা করতে আমি সময় পেয়েছি, এই সব বিষয়ে যে, আমার দেশের ২০% লোক শিক্ষিত। তার মধ্যে আমরা ১০% বা ৫% লোক লেখাপড়া কিছুটা জানি। এর মধ্যে এক গ্রুপ আমরা পলিটিসিয়ান হয়ে গেলাম। এক গ্রুপ আমরা বুদ্ধিজীবী । এক গ্রুপ স্কুল টিচার, যারা এই ঘোরপ্যাচের মধ্যে আসতে চায়না ।

এক গ্রুপ আমরা সরকারি কর্মচারী হয়ে গেলাম। কেউ ডাক্তার হয়ে গেলাম, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম, কেউ অমুক হয়ে গেলাম। আর কিছু সংখ্যক লোক হয়ে গেলাম রাজনীতিবিদ । কিন্তু একচুয়াল যেটা পিপল, তাদের সহ সবাইকে একতাবদ্ধ করতে না পারলে সমাজের দুর্দিনে দেশের মঙ্গল হতে পারেনা। সেজন্য আমরা চিন্তা করলাম, সমাজের যেখানে যিনি আছেন, তিনি রাজনীতিবিদ হন, ল-ইয়ার হন, আর যাই হন- কারণ আমার সমাজে তো শতকরা ২০ জনের বেশি শিক্ষিত নন- এদের মধ্যে সমস্ত লোককে একতাবদ্ধ করে দেশের মঙ্গলের জন্য এগিয়ে যেতে না পারি, তবে দেশের ‘মঙ্গল করা কষ্টকর হবে ।

সেজন্য নতুন সিস্টেমের কথা বহুদিন পর্যন্ত চিন্তা করেছি। আমার মনে হয়, বাংলাদেশবাসী এটাকে গ্রহণ করেছে। এবং ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। আর একটা জিনিস আমি মার্ক করলাম । সেটা হলো এই যে, একদল বলে- আমরা পলিটিসিয়ান, একদল বলে- আমরা ব্যুরোক্র্যট। তাদের

আ্যাটিচিউড হলো- হাউ টু ডিসক্রেডিট দি পলিটিসিয়ান। পলিটিসিয়ানরা তাদের স্ট্রেংখ দেখাবার জন্য বলতো যে, অল-রাইট, গেট আউট । এই নিয়ে সমস্ত দেশে একটা ভাগ-ভাগ অবস্থার মধ্যে থাকতো । এই সন্দেহটা দূর করা দরকার এবং দুর করে সকলেই যে এক এবং সকলেই যে দেশকে ভালোবাসে এবং মঙ্গল চায়- এটা প্রমাণ করতে হবে। আমার সমাজে যে সমস্ত গুণীজ্ঞানী লোক আছেন ও অন্য ধরণের যতো লোক আছেন, তাদের নিয়ে আমার একটা পুল করা দরকার ।

এই পুল আমি করতে পারি, যদি আমি নতুন একটা সিস্টেম চালু করি, এবং একটা নতুন দল সৃষ্টি করি- জাতীয় দল, যার মধ্যে এক মত, এক পথ, এক ভাব- এক হয়ে দেশকে ভালোবাসা যায়। যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে, তারা এসে একতাবদ্ধ হয়ে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যেতে পারে। এজন্য আজকে এটা করতে হয়েছে। আর দ্বিতীয়ত, পয়সা কড়ি খরচ করে অন্য ধরণের রাজনীতি করা যায়।

কিন্তু আমি যেটা বলেছি শোষিতের গণতন্ত্র, কেন বলেছি? শোষিতের গণতন্ত্র এ-জন্য বলেছি যে, আজকে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে মানুষ । বঙ্গবন্ধু বলে দিয়েছে, অল রাইট, যাও তুমি, যেয়ে কনটেস্ট করো। আমি যেয়ে কিছু বক্তৃতা করে দিয়ে এলাম, যাও । পছন্দ হয় না, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আর করবো কি, ভোটটা দিয়েই দিলাম । এ-ও হয়েছে অনেক জায়গায়, হয়। কাজেই সেজন্য সিস্টেম চেঞ্জ করে বলেছি যে, কনস্টিটিউয়েন্সিতে দেওয়া হলো, এই তিনজন চারজন পার্টির লোক আছে- তাদের মধ্যে যাকে আপনারা পছন্দ করেন, ভোট দিন।

 

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ কমিটিতে বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী ভাষণ | ১ম খন্ড

 

ফলে জনগণ সুযোগ পেলো গ্যাকর্ডিং টু দেয়ার ওন চয়েস, ভালো লোককে পাঠাবার জন্যে । না হলে আমরা অনেক সময় জিন্দাবাদ মুর্দাবাদ দিয়ে পাস করিয়ে নিয়ে আসি । তাতে দেখা গেছে যে, সত্যিকারের ভালো লোক অনেক সময় নাও আসতে পারে। কিন্তু এতে সত্যিকারের ভালো লোক আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সেজন্য এই সিস্টেম করা হয়েছে। তৃত্বীয়ত, জাতীয় এঁক্য, যেটা বলেছি আমি, জাতীয় এঁক্য আমরা করতে পারবো ।

যারা দেশকে ভালোবাসে না, দেশের সাথে বেঈমানি করেছিল, তাদের সকলকে আমরা ক্ষমা করলাম । স্বাধীনতার সাথে যারা ক্ষমা করে দিলাম। অন্য দেশে বিপ্রবের পরে এভাবে ক্ষমা করে নাই। একেবারে নির্মূল করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষমা করলাম। বললাম যে, ঠিক আছে, তওবা করো, আল্লাহ তোমাদের ঈমান দিক। তোমার দেশের কাজ করো । কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী । তাদের মধ্যে একটা গ্রুপ, সেই শক্র- যে শক্র আমাদের এখানে ম্যাসাকার করলো, তাদের মাধ্যমে লন্ডনে বসে অর্থ খরচ করে বাংলাদেশের মধ্যে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে আরম্ভ করলো।

তাদের কি অধিকার আছে বাংলাদেশে রাজনীতি করার? ক্ষমা করতে পারি। প্রভিশন হবে ৬০ টি জেলার । প্রত্যেক জেলার জন্য একজন গভর্ণর থাকবেন। সেখানে ভিন্টরিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তার অধীনে এস.পি. থাকবেন। দলের প্রতিনিধিগণ থাকবেন. সংসদ সদস্যরা থাকবেন, জনগণের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কাউন্সিলে সরকারী কর্মচারীরাও থাকবেন। প্রত্যেক জেলায় অর্থ্যাৎ বর্তমান মহকুমাসমূহে একটি করে এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল থাকবে এবং তার একজন গভর্ণর থাকবেন ।

তিনি স্থানীয়ভাবে শাসন ব্যবস্থা! চালাবেন। শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। জেলা গভর্ণরের কাছে যাবে আমার ওয়ার্কস প্রোগ্রামের টাকা । তার কাছে যাবে আমার খাদ্য সামশ্রী। তার কাছে যাবে আমার টেস্ট রিলিফ, লোন, বিল ও সেচ প্রকল্পের টাকা । কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ডাইরেক্ট কক্ট্রোলে আ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল ডিস্ক্ আযাডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনা করবে। তবে, বৃটিশ আমলারা বলে গেছেন, সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে হবে । এস.ডি. ও সাহেব যা করবেন, সেটাই হবে ফাইনাল কথা। সি,ও শাসন করবেন থানায় বসে। সেই আ্যাডমিনিস্ট্রেশন রাখতে হবে ।

এতে দেশের মঙ্গল হবে না। কারণ আমি যে টাকা দেব একটা থানায়, সেই টাকা দেব সি.ও. সাহেবকে । এনি পলিটিক্যাল ওয়ার্কার ইজ বেটার দ্যান এনি সি.ও. ইফ দি পলিটিক্যাল ওয়ার্কার ইজ সিনসিয়ার। অন্যথায় ক্যাশের টাকা সেখান থেকে লুট হয়ে যাবে । আমি অর্ডার দিয়েছি, আজকে অর্ডার হয়ে গেছে। ১৫ জুলাই থেকে এই ৬০ জন গভর্ণরকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। ১ সেপেম্বর পর্যন্ত ডিস্িটিক্ট হয়ে যাবে। এক বছরের মধ্যে থানা আ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল করতে হবে ।

সেখানে শ্রমিকের থাকবে, যুবকের থাকবে, মহিলাদের থাকবে। একজন গভর্ণর থাকবেন, যিনি হবে হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। সেখানে মেমার অব পার্লামেন্ট গভর্ণর হতে পারেন। সেখানে পার্লামেন্টের মেম্বার নন, এমন পলিটিক্যাল ওয়ার্কার হতে পারেন। সেখানে সরকারি কর্মচারী যাকে বিশ্বাস করি- তিনিও হতে পারেন। আবার নাক উচু করা চলবে না। পার্টির মেম্বার হবার পরে দে উইল টেক রেসপনসিবিলিটিজ অব আ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এই তো গেল এক দিক, তবে আমি কাজ বাড়িয়ে দিয়েছি আইন মন্ত্রীর। আমি অর্ডারগুলো করে দিয়েছি, কিন্তু তার জান শেষ । মানে এইগুলো করতে তার জান শেষ হয়ে যাবে ।

বুঝেছি, শুনে মুখ কালো করে ফেলেছেন। অর্ডার আমি দিয়েছি, আইন তার বদলাতে হবে । আইন-টাইন আমি বুঝি না। আমি বলেছি, কাজ করে যান, যা কিছু দরকার হয়, এই আযাডমিনিস্ট্রেশন, তারপর আমাদের সেক্রেটারিয়েট, সব ভাঙ্গতে হবে। এসব চলতে পারে না। আই এ্যাম গোয়িং ফর দ্যাট । টাকা নাই, পয়সা নাই, খাবার নাই, এটা নাই, ওটা নাই-সব ভাঙ্গতে হবে। ডাবল, ট্রিপল, গ্যান্ড দ্যাট। এক এক নোট লিখে নিয়ে আসে। আমি বলেছি এস্টাবলিশমেন্টের সাহেবরা আছেন।

এখান থেকে আরম্ভ করে সেকশন কাছে। এইটুকু নোট, এটুকু ফাক তা সত্বেও। এসবের প্রয়োজন নাই, সোজাসুজি কাম চালান । কর্পোরেশন করেছি। অলরেডি দুটি কর্পোরেশন করে ফেলেছি। এভরি কর্পোরেশন ডাইরেক্টলি আন্ডার দি মিনিস্টার থাকবে । লেট দি মিনিস্টার গেট ওয়ার্ক ফ্রম জয়েন্ট সেক্রেটারি । বৃটিশ আমলে সেই ঘুণে ধরা আ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিস্টেম দিয়ে বাংলার মানুষের মঙ্গল হতে পারে না। ইট মাষ্ট গো। সেই জন্য অমুল পরিবর্তন দরকার হয়ে পড়েছে। দ্যাট ইজ অলসো এ রেভুল্যুশন।

আজকে এই যে নতুন এবং পুরানো যে সমস্ত সিস্টেমে আমাদের দেশ চলছে, এর জন্য আমাদের আত্বমসমালোচনার প্রয়োজন আছে। আতুসমালোচনা না করলে আত্মশুদ্ধি করা যায় না। আমরা ভুল করেছিলাম । আমাদের বলতে হয় যে, ভুল করেছি। আমি যদি ভুল করে না শিখি, ভুল করে শিখবো না, সে জন্য আমি সবই ভূল করলে আর সকলই খারাপ কাজ করবে- তা হতে পারে না। আমি ভূল নিশ্চয়ই করবো, আমি ফেরেস্তা নই, শয়তানও নই । আমি মানুষ, আমি ভুল করবোই।

আমি ভুল করলে আমার মনে থাকতে হবে, আই ক্যান রেকটিফাই মাইসেলফ। আমি যদি রেকটিফাই করতে পারি, সেখানেই আমার বাহাদুরি । আর যদি গো ধরে বসে থাকি যে, না, আমি যেটা করেছি, সেটাই ভালো, দ্যাট ক্যানট হিউম্যান বিং। ফেরেস্তা হইনি যে সবকিছু ভালো হবে । হতে পারে, ভালো হতে পারে। উই উইল রেকটিফাই ইট। এই সিস্টেম ইনট্রোডিউস করে যদি দেখা যায় যে, খারাপ হচ্ছে, অল রাইট, রেকটিফাই ইট । কেননা আমার মানুষকে বাচাতে হবে ।

আমার বাংলাদেশে শোষণহীন সমাজ গড়তে হবে। আমরা নতুন ল্যান্ড সিস্টেম_-এ আসতে চাচ্ছি। আমরা কো- অপারেটিভে আসতে চাচ্ছি। দিজ ইউনিয়ন কাউন্সিল ওল্ড বৃটিশ ইউনিয়ন কাউন্সিল। যেখানে যা দেওয়া হয়, অর্ধেক থাকে না, সাথে সাথে সাফ।

 

Bangabandhu Gurukul
Bangabandhu Gurukul

 

আরও পরুন :

মন্তব্য করুন