১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ

১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণঃ নৌবাহিনীর অধিনায়ক ও আমার ভাইয়েরা,,,, আপনাদের কাছে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আপনারা আমার শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আজ আপনাদের দেখে সত্যিই আমার বুক আনন্দে ভরে ওঠে।

 

১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ
১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ

 

১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ

 

আপনারা অনেকেই জানেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় নৌবাহিনীর যে কয়জন বাঙালী সৈনিক বাংলাদেশের ছিল, তারা সামান্য শক্তি নিয়ে সামরিক বাহিনীর ভাইদের সাথে মিলে বাংলার জনগণের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের কাছে জাহাজ ছিল না। তাদের কাছে গোলাবারুদ ছিল না। তাদের কাছে কিছুই ছিল না। কিন্তু করেছে। তখন আপনাদের অনেক ছেলে শহীদ হয়েছে, অনেকে আত্মাহুতি য়ছে, হাত দিয়েছে, রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা এনেছে।

 

বাংলাদেশের নৌবাহিনী গঠন

পাকিস্তানী আমলে বাঙ্গালীদের নৌবাহিনীতে চাল দিত না। আপনাদের অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে যে, আমরা তখন তাদের সঙ্গে এই নিয়ে সংথাম করেছিলাম । যার জীবনে কখনো পানি দেখে নাই, যারা পানির মধ্যে গোসল করে নাই, তাদের নৌবাহিনীতে গ্রহণ করা হত। আর, যারা বাংলাদেশের মানুষ, যারা পানির মধ্যে জন্গ্রহণ করেছে, যারা পানির মধ্যে খেলে বেড়িয়েছে; নদীমাতৃক এই বাংলার সেই বাঙ্গালীদের নৌবাহিনীতে স্থান হত না। এর জন্য সংগ্রাম বহু দিন চলেছে। আজ তিন বৎসর হতে চলেছে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

বাংলার ছেলেরা যখন আত্মাহুতি দিয়ে স্বাধীনতা সংথাম চালায়, আমি যখন জেলখানা থেকে ফিরে আসি, তখন সামান্য কয়েকজন লোক ছাড়ানৌবাহিনী বলে কোন পদার্থ ছিল না। আজ দেখে আমার আনন্দ হর, সামান্য কিছুদিনের মধ্যেই আপনাদের নৌবাহিনী গড়ে উঠেছে। দেশের মানুষ আজ দুঃখী ।

দেশের মানুষ আজ না খেয়ে কষ্ট পাচ্ছে। বিদেশ থেকে খাবার আনতে হয়। দুনিয়ায় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলার অর্থনীতি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হযেছে। এই অবস্থার মধ্যে আমি উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারি।

 

বর্তমান কর্তব্য

আপনাদের এখন মনে রাখতে হবে, আপনারা এই বাংলাদেশের মানুষ । আপনারা বাংলাদেশের জনগণের সন্তান এবং তাদের ভাই। বাংলার জনগণের দুঃখে আপনাদের দুঃখ, বাংলার জনগণের সুখে আপনাদের সুখ। আজ দেশের মানুষের যা অবস্থা, তাতে প্রথম কর্তব্য হল তাদের খাবারের বন্দোবস্ত করা। খাবারের বন্দোবস্ত না করে কোন কাজই হতে পারে না। আমার কাছে কতগুলো ছেলে এসে বলেছিল তাদের শিক্ষার প্রয়োজন, অর্থের প্রয়োজন। আমি তাদের বললাম, আগে ভাত, না শিক্ষা? তারা বললো, ভাত।

প্রথমে আমাদের বাংলার মানুষকে ভাত দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হোক। বাঙ্গালীরা দীর্ঘ দিন শোষিত হয়েছে। দুই শত বৎসর বাঙ্গালীরা ধরেজের গোলাম ছিল। পঁচিশ বৎসর পাকিস্তানীরা বাংলার সম্পদ লুট করেছে। সাড়ে সাত কোটি মানুষের এই দেশ স্বাধীন হয়েছে খালি হাতে। তাদের কিছুই ছিল না। আজ যেখানে আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন সে জায়গাটা ছিল ধ্বতসন্তপ।

আপনারা দেখেছেন এই পোর্টের পাশ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারতো না। কিন্ত তিন বসরে দেশ অনেক অগ্রসর হয়েছে। পোর্ট কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। রাস্তাঘাট হয়েছে, এয়ারপোর্ট হয়েছে। আপনারা কিছুটা নিজের পায়ে দীড়াতে সক্ষম হয়েছে। ত্যাগ স্বীকার না করে কোন জাতি কোন দিন বড় হতে পারে না। দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে, দেশকে ভালবাসতে হবে । তাহলে আমরা সবই পাবো।

 

আমরা শান্তিকামী জাতি

বাংলাদেশ নদীমাতৃক। আমাদের নৌবাহিনীর প্রয়োজন আমাদের রক্ষা করবার জন্য। সাইক্লোনের মোকাবেলা করবার জন্য । আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আমরা শান্তিকামী জাতি। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্‌ চাই। কিন্তু আত্মরক্ষা করবার মতো ক্ষমতাও আমাদের থাকা দরকার। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানে, আমরা বিশ্বাস করি দুনিয়ার শান্তিতে । আমরা চাই দুনিয়ার সম্পদশালী দেশগুলি যুদ্ধের জন্য অর্থ ব্যয় না করে মানুষের জন্য অর্থ ব্যয় করুক। তাহলে দুনিয়ায় গরীব মানুষ থাকবে না।

আমরা এমনি আদর্শে বিশ্বাসী এবং সেই জন্যই বাংলাদেশ শান্তিকামী দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। তবু আমাদের কর্তব্য নিজের পায়ে দাড়ানো । যে জাতি নিজেকে সম্মান করতে পারে না, আত্মমর্ধাদা রক্ষা করতে পারে না, সে জাতি দুনিয়ায় কোনদিন বড় হতে পারে না। সেজন্য আজকে আমরা আত্মমর্ধাদাবিশিষ্ট জাতি হিসেবে, আত্মমর্ধাদা নিয়ে বাস করতে চাই। আমরা অন্য কারও ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। অন্য কেউ আমাদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করুক, তাও আমরা সহ্য করবো না। আমরা এই নীতিতেই বিশ্বাসী ।

 

নৌবাহিনীর জন্য বাঙালীরা গর্বিত

নৌবাহিনীর ছেলেরা, তোমরা যা করেছো, তার জন্য আমার অভিনন্দন নাও। সামান্য জিনিস নিয়ে, একখানা দু’খানা ভাঙ্গা জাহাজ কোন মতে মেরামত করে তোমরা আজ এই সমুদ্র পাহারা দিচ্ছ। এর জন্য আমি তোমাদের মোবারকবাদ জানাই । দুঃখের বিষয়, পাকিস্তানীরা আমাদের টাকা দিয়ে পঁচিশ বৎসরে যে নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিল, তার এক আনা সম্পদও আমরা পাই নাই। একখানা যুদ্ধ জাহাজ, একখানা গাধাবোট বা একখানা মালবাহী জাহাজও আমাদের দেয়া হয় নাই। দেবে কিনা, তাও জানি না।

দেওয়ার ইচ্ছা বোধ হয় তাদের নাই। তা তাদের কাছ থেকে কিছু নাইবা পেলাম । মাটি যখন পেয়েছি, বাংলার মানুষ যখন আছে, বাংলার ভবিষ্যত বংশধররা যখন আছে, বাংলার সম্পদ যখন আছে, তখন ইনশাল্লাহ সবাই আমরা গড়ে তুলতে পারবো, আমাদের সব জিনিসই হবে । ভবিষ্যৎ বংশধররা চিরজীবন সুখে থাকবে । প্রভু নামে কোন দিন আর কেউ বাংলার মাটিতে আসতে পারবে না।

 

১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ
১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ

 

তোমরা কষ্ট করে বেতন না পেয়ে গায়ে কাপড় দিতে না পেরেও কাজ করেছো । তোমাদের গরম কাপড় দিতে পারি না। ধরতে গেলে কিছুই দিতে পারি না। তারমধ্যেও তোমরা যারা কাজ করেছো, বাঙ্গালীরা তাদের জন্য গর্ব অনুভব করে। আসিও এর জন্য তোমাদের মোবারকবাদ জানাই ।

 

সব জিনিস গড়তে হবে

আস্তে আমাদের সবই গড়তে হবে। চারদিকে যা অবস্থা, গঠনমূলক কাজ দিয়ে মানুষকে তার থেকে বাচানো দরকার। দেশের মানুষকে বাচাতে হবে। রাস্তাঘাট, সামরিক বাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, রক্ষী বাহিনী, সবই আমাদের গড়তে হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। দেশের বেকার সমস্যা দূর করবার জন্য কল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। এসব দুই দিনের ব্যাপার নয়, দুই বরের ব্যাপারও নয়। অনেক দিন প্রয়োজন।

একটা শোষিত দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক দিনের প্রয়োজন। আমরা মাত্র তিন বৎসর হল স্বাধীনতা পেয়েছি। তাও আবার ধংসন্তপের উপরে। পাকিস্তানীরা এক আনার বৈদেশিক মুদ্রাও রেখে যায় নাই, এক আনার গোল্ড রিজার্ভও রেখে যায় নাই। তারা কমুনিকেশন নষ্ট করে দিয়েছিল। তারপরও আমি গর্ব করে বলেছি, বাংলার মানুষের সব হবে।

কেউ বদি মনে করে থাকে যে, বাংলাদেশের মানুষ তিন বৎসর এত কষ্ট করেছে, এখানে এত সাইক্লোন, এত বন্যা, এত খাবারের অভাব হয়েছে, এরপর ‘তারা আর কিছুই গড়তে পারবে না, তাহলে সেটা হবে ভুল ধারণা । আজ সত্য কথা বলতে কি, এবারের বন্যায় অনেক মানুষ না খেয়ে মরেছে। তার জন্য আমি লজ্জা করি না। আমি মিথ্যা কথা বলি না। আমি কিছু গোপন করি না, সত্য কথা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করি না।

ওসবে আমার বিবেক আমাকে দংশন করে। আমি দুনিয়ার সব জায়গা থেকে ভিন্ষা করে এনে জান বাঁচাবার চেষ্টা করেছি। আপনাদের কষ্ট করতে হবে। বাংলার সম্পদ আছে। সে সম্পদ ব্যবহার করা হয় নাই। ব্যবহার করতে সময় লাগবে। ইনশাল্লাহ যদি বাংলার সম্পদ আমরা ব্যবহার করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ যে সোনার বাংলা হবে সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই।

 

নৌবাহিনীর নওজোয়ানদের কর্তব্য

তোমাদের কাছে আমার আবেদন, তোমরা শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলবে। শৃঙ্লাবিহীন জাতি বাচতে পারে না। তোমাদের তো বিশেষভাবে শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলা প্রয়োজন। তোমরা উপরওয়ালার হুকুম মানবে । দেশকে ভালবাসবে । দেশের মাটিকে ভালবাসবে । তোমাদের বাবা-মা, আমাদের বাবা-মা এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আমরা তাদেরই সন্তান। তাদের মেনে চলতে হবে । আর তোমরা সৎ পথে থাকবে । এসব তোমাদের প্রতি আমার আদেশ, আমার অনুরোধ ।

আজ তোমরা আমাকে জাতির পিতা করেছো, প্রধানন্ত্রী তো আমি সাময়িকভাবে হয়েছি। আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতাম, কিন্তু তা হই নাই। আমি চেয়েছি বাংলার মানুষের মুক্তি। আমি জীবন-মরণ সংগ্রাম করেছি বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য । আজ আমি তাই চাই, তোমরা যেখানেই যাও, কেউ যেন তোমাদের বদনাম করতে না পারে। কেউ যেন না বলতে পারে, তোমরা অত্যাচার করেছো। তোমাদের কর্তব্য হবে, যখনই কোন কাজ করতে যাবা, মানুষের মুখের দিকে তাকাবে ।

দেখবে তার চেহারা হয়তো তোমাদের বাবার মতো, নয়তো ভায়ের মতো, নয়তো মা-বাবা-বোনের মতো। সকলেই তোমাদের ভাই, সকলেই তোমাদের আত্মীয়-স্বজন। আজকে দেশের যা কিছু তোমরা দেখো, সবাই এই বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের, বাংলাদেশের জনগণের টাকায় হয়েছে। তাই তাদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে । তোমরা যেখানেই যাও, কাজ করবে । যারা অন্যায় করে, তাদের দূর করে দেবে। কিন্ত যারা নিরপরাধ, তাদের উপর যেন আঘাত হেনো না। আমার এই কথাগুলি তোমরা মনে রাখবে ।

আমি যা বলি, তোমাদের তা মানা প্রয়োজন । আমার দেশের মানুষ আমার কথা শুনেছিল বলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ তোমরা যদি আমার কথা শোনো, যদি দীড়াও এবং সৎপথে থাকো, ইনশাআল্লাহ দেখবে সোনার বাংলা সোনার বাংলাই হবে। বহুকাল বাংলার সম্পদ বাংলায় থাকে নাই। সেই জন্যই আজ বাঙালীরা দুঃখী । ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বাংলার সম্পদ বাংলার মাটিতে থাকবে । বাংলার মানুষ যে একদিন সুখী হবে এবং বাংলা যে সোনার বাংলা হবে, সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নাই।

 

১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ
১০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালের চট্টথামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাসণ

 

সার্বভৌমত্‌ রক্ষা করতে হবে

তোমাদের কমাগডারের কাছে শুনেছি, তোমরা অনেক কষ্টে আছো । তিনি বলেছেন, তোমাদের প্রয়োজন অনেক । হ্যা, সত্যিই অনেক প্রয়োজন ।সবই তোমরা পাবে। কিন্তু আস্তে । আমি বাংলাদেশকে বিক্রি করতে চাই না। মরগেজ রাখতে চাই না। বিক্রি করলে বা মরগেজ রাখলে জিনিসের অভাব হয় না। কিন্ত আমি নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখে সাহায্য চাই, নিজেকে বিক্রি করে বা মরগেজ দিয়ে চাই না। আমি আস্তে নৌবাহিনী গড়বো। নৌকায় করে আমার নৌবাহিনীর ছেলেরা চলবে।

তবু আমি বাংলাদেশকে মরগেজ দিয়ে কারও কাছ থেকে কিছু আনবো না। সব সময়ই বাঙ্গালীদের মধ্যে এক ধরণের লোক ছিল, যারা বিদেশী শত্রুকে দাওয়াত করে এনেছে। এই শক্রদের আমি বাংলার মাটিতে আসতে দিতে পারি না। নিজেরা কষ্ট করে এক-একখানা করে ইট বানিয়ে সব গড়ে তোল । তাতে শান্তিতে ঘুমোতে পারবে । বিদেশের কাছে দেশকে মরগেজ দিলে মাথা নত করে থাকতে হবে, নিজেদের বিক্রি করতে হবে । অবশ্য, যারা বব্ধুরাষ্ট্, যারা আমাদের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্কে সম্মান করে সাহায্য করতে চায়, তাদের কাছ থেকে আমি নিশ্চই সাহায্য নেব।

যতদিন আমি বেঁচে আছি, বাংলার মানুষকে, বাংলাদেশকে মরগেজ রেখে সাহায্য নেব না। সে সাহায্যকে আমি ঘৃণা করি। তোমাদের মনে রাখা দরকার, বহু রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। ত্রিশ লক্ষ লোকের জীবন দিয়ে স্বাধীনতা আনা হয়েছে। লক্ষ মা-বোন বেইজ্জত হয়েছে । এক কোটি লোক বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। আমরা ভারতবাসীদের কাছে কৃতজ্ঞ। ভারত আমাদের বন্ধুরষ্টর।

তারা এক কোটি লোককে খাবার দিয়েছিল, আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্ব কামনা করি। আমরা দুটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি বাস করতে চাই এবং আমি বিশ্বাস করি, এই বন্ধৃতু আমাদের থাকবে। তোমাদের কাছে আমার বক্তব্য, আমাদের যা আছে, তাই দিয়েই আস্তে সব জিনিস গড়তে হবে। তাড়াতাড়ি কোন কিছু করতে গেলে, বেশী বাড়লে ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে।

আস্তে আমাদের যা সম্পদ আছে; তাই দিয়ে কিছু করে অগ্রসর হতে হবে। আর তোমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে। বাংলার মানুষকে ভালবাসবে । তাদের ভালবাসলে তোমরাও তাদের ভালবাসা পাবে। তাই তোমাদের প্রতি আমার আদেশ, অনুরোধ ও আবেদন, দেশের মানুষকে ভালবাসবে দুষ্টকে দমন করবে আর যারা শিষ্ঠ তাদের সম্মান করবে।

এই কথা বলেই আবার মোবারকবাদ জানিয়ে তোমাদের কাছ থেকে আমি বিদায় নিচ্ছি। তোমরা আমাকে যে সুযোগ দিয়েছো, তার জন্য আমি ।

তোমাদের ধন্যবাদ জানাশ ।

খোদা হাফেজ

জয় বাংলা

 

Bangabandhu Gurukul
Bangabandhu Gurukul

 

আরও পরুন :

মন্তব্য করুন