১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণঃ

সহকর্মী ভাই ও বোনেরা,

বিদেশ থেকে আগত অতিথিবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কর্মী ভাইয়েরা, আপনারা আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন । স্বাধীনতা সংরামের পর এবারই নির্বাচিত কাওন্সি সদস্য হিসেবে প্রথম আপনারা সম্মেলনে যোগদান করেছেন। কর্মী ভাইয়েরা, আওয়ামী লীগের অত্যাচারের ইতিহাস, সংগামের ইতিহাস, জয়ের ইতিহাস। আপনাদের সঙ্গে বাংলার মাঠে, প্রান্তরে, গ্রামে গ্রামে আমি কাজ করেছি।

 

১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ
১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

 

১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

 

এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম থেকে প্রথমে আমি যোগদান করি যুগ সম্পাদক হিসেবে । ৫৩ সাল থেকে  পয়ষট্টি সাল পর্যন্ত কাজ করি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবং ছেষট্টি সাল থেকে এ পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে। গঠনতন্ত্রে বিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হলে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সম্পাদক কিংবা কর্মকর্তা হওয়া যায় না। তবুও গতবার আপনারা আমাকে কিছুদিনের জন্য দায়িতৃভার দিয়েছিলেন আপনাদের সভাপতি হিসেবে কাজ করার জন্য । আজ আপনাদের নতুন করে প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে।

ফাঁকির স্বাধীনতা আপনারা জানেন কিভাবে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলাম। দুই শত বছর ইংরেজ এদেশকে শাসন করে। দুই’শ বছর পরে ১৯৪৭ সালে এক ফাঁকির স্বাধীনতা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। আমরা বাংলাদেশের জনগণ সংখ্যাগুরু ছিলাম। কিন্তু বাংলার মানুষকে শোষণের পর শোষণ করার পর সামরিক শক্তি দ্বারা পরিচালিত পাকিস্তানের সংখ্যালঘু শাসক গোষ্ঠী ১৯৪৭ সালে নতুন করে বাংলাকে পরাধীন করে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের কলোনীতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করে পাকিস্তানী

 

শাসকগোষ্ঠী গড়ে তোলে তাদের দেশকে । কিন্তু বাংলার মানুষ চুপ করে থাকে না। এসব শাসন শোষণ ও সংগ্রামের অনেক ইতিহাস আপনাদের জানা আছে। কারণ অনেক আন্দোলনের মধ্যে থেকে আপনাদের জন্ম । অনেক রক্ত দিয়ে আপনাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে । আপনাদের বার বার মোকাবেলা করতে হয়েছে শোষক শ্রেণীকে, মোকাবেলা করতে হয়েছে একদল মীরজাফরকে । বাংলাদেশের একদল শোষক যদি হাতে হাত না মিলাত_তাহলে পঁচিশ বছর পাকিস্তানীরা বাংলাকে শোষণ করতে পারত না।

যতবার আমরা সংগ্রামে এগিয়ে গিয়েছি, ততবারই এই বাংলার মাটিতে একদল লোক সেই শোষকদের হাতিয়ার হিসেবে আমাদের উপর চড়াও হয়েছে। বার বার আমরা এদের মোকাবিলা করেছি। বার বার আমরা মার খেয়েছি । অবশেষে আমরাও চরম আঘাত হেনেছি, যে আঘাতে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। সহকর্মী ভাইয়েরা ও বোনেরা, ১৯৪৭ সালের পূর্বে আমরা যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান করেছিলাম, তখন আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা স্বাধীন হবো।

কিন্তু সাতচন্লিশ সালেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমরা নতুন করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছি। এর মধ্যে থেকেই আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। জনগণ তখন বুঝতে পারে নাই। শোষক গোষ্ঠীর নায়করা এখানে শক্তিশালী সরকার গঠন করে। তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে। এই অবশতায় আমরা কিছু শঙ্কার  দেশ প্রেমিক তাদের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াবার চেষ্টা করি। আমার মনে আছে ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম আমরা ডেমোক্রেটিক ইয়ুখলীগ নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি।

উদ্দেশ্য শোষক গোষ্ঠির মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু আমরা এগুতে পারলাম না। অনেক সময় থিওরি প্রাকটিসে গণ্ডগোল হয়ে যায়। থিওরি খুব ভাল। কাগজে কলমে লেখা থিওরি অনেক মূল্যবান। পড়ে শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল কাজের সঙ্গে মিল না থাকলে থিওরি কাগজে-কলমে পড়ে থাকে, কাজে পরিণত হয় না। তখনকার দিনে একদল লোক এ-ধরনের থিওরির অনুসারি ছিলো । এ সময় ভারতবর্ষে, কম্যুনিষ্ট পার্টির নেতা ছিলেন রণদিতে। তিনি পি,সি, যোশীকে তাড়িয়ে দিয়ে কম্যুনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন। তিনি বললেন, এখনই অস্ত্রের সাহায্যে মোকাবিলা করা দরকার । পণ্ডিত জহরলাল

 

১০ জানুয়ারি বঙ্গ১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ
১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

 

নেহেরু সরকারকে উৎখাত করতে হবে। তীরা এদিক-ওদিক আঘাত হানলেন। আমাদের এখানেও কিছু সংখ্যক কর্মী বুঝতে না পেরে সেই পন্থা অবলম্বন করতে গেলেন। আমাদের সঙ্গে তাদের মতের অমিল হলো। আমরা বললাম, দেশের মানুষকে না গড়ে তুলে, দেশের মানুষকে – মোকাবিলাই না করে এবং পরিষ্কার আদর্শ না নিয়ে চলা যায় না.। তারা বুঝতে পারলেন না। ডেমোক্রেটিক ইমুখ লীগ ভেঙে গেল ।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের জন্মঃ

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যখন শোষণ করতে চায়, তখন তারা আঘাত করে শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপর, ভাষার উপর তাকে ধ্বংস করতে না পারলে শোষণ করা সহজ হয়ে উঠেনা। তাই, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার উপর আঘাত হানলো। সংখ্যাগুরু লোকের ভাষার উপর আঘাত করে আমাদের উপর উর্দূ ভাষা চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা হলো। তখন একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিলো মুসলিমলীগ | জিন্নাহ, সাহেব তখনও বেঁচে আছেন এবং তার দলের লোকেরাই বাংলাদেশে শাসন চালিয়েছিলো ।

তাদের শক্তি ছিলো, সামর্থ্য ছিলো, অর্থ ছিলো। বিদেশী শক্তিও তাদের পিছনে ছিলো । আমরা ভাষার উপর এ আঘাত সহ্য করতে পারলাম না। তারই ফলশ্রুতিতে আটচন্লিশ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম হয়। ১১ই মার্চ তারিখে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন শুরু করি। এ তারিখেই অন্যান্য কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে আমরা শোষক গোষ্ঠীর আঘাতের মোকাবিলা করি. আজ মনে পড়ে আমার বন্ধু ও সহকর্মী শামসুল হকের কথা, যার সঙ্গে অনেকদিন কাজ করেছি। তিনি আর ইহজগতে নাই ।

তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তীর কথা যদি আজ আমি স্মরণ না করি, অন্যায় করা হবে। মরহুম শামসুল হক আর আমি একসঙ্গে গেফতার হই। তারপরেই আমাদের আন্দোলন শুরু হয়। আমরা বুঝতে পারলাম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আছে। তা না হলে আন্দোলন করা যাবে না, তাই আমরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করলাম ।

আমাদের সহকর্মীদের মোকাবিলাই করতে শুরু করলাম। আবার আমাকে গ্রেফতার করা হলো। আমার সহকর্মীদের গ্রেফতার করা হলো। আমরা সেখানে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান করবো বলে ঠিক করলাম । ১৯৪৯ সালের জুন মাসে আমি যখন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী তখন আওয়ামীলীগের জন্ম হয়। জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায়ই তারা আমাকে যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত করেন ।

 

বায়ান্ন সালের আন্দলন,

অনেকে ইতিহাস ভুল করে থাকেন। ১৯৫২ সালের আন্দোলনের তথা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস আপনাদের জানা দরকার । আমি তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বন্দী অবস্থায় চিকিৎসাধীন । সেখানেই আমরা স্থির করি যে, রাষ্ট্র ভাবার উপর ও আমার দেশের উপর যে আঘাত হয়েছে ২১ শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, তার মোকাবিলা করতে হবে। সেখানেই গোপন বৈঠকে সব স্থির হয়। এ কথা আজ বলতে পারি, কারণ আজ পুলিশ কর্মচারীর চাকরি যাবে না। সরকারি কর্মচারীর চাকরি যাবে না।

কথা হয়, ১৬ই ফেব্রুয়ারি আমি জেলের মধ্যে অনশন ধর্মঘট করব, আর ২১ শে তারিখে আন্দোলন শুরু হবে। জেলে দেখা হয় বরিশালের মহিউদ্দিন সাহেবের সঙ্গে । তাকে বললাম, আমরা এই প্রোগ্রাম নিয়েছি। তিনি বলেন, আমিও অনশন ধর্মঘট করব। ১৬ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আমরা অনশন ধর্মঘট করলাম । এর দরুন আমাদের ট্রা্সফার করা হলো ফরিদপুর জেলে । সুচনা হয় ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের । তারা চরম আঘাত করলো ভাষার উপর, কৃষ্টির উপর । চরম আঘাত হানলো আমাদের উপর ।

১৯৪৯ সালের আওয়ামীলীগের জন্মের পর থেকেই গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়। আওয়ামীলীগের কণ্ঠ রোধ করে দেওয়া হলো। আওয়ামীলীগের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলা হলো । আওয়ামী লীগ কর্মীদের পালিয়ে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এভাবেই আমাদের দিন কাটতে থাকে । এ অবস্থায় আমরা সং ঢালিয়ে যাই। একদিনে সংঘাম হয় না। একদিনে দেশ জয় হয় না। একদিনে আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। এজন্য চাই নীতি । ও অবস্থায় আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাই ।

সহকর্মী ভাইয়েরা, আজ এ-সব কথা কেন বলছি? এ জন্যে বলছি যে, এতকাল পর্যন্ত আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক [হসেবে আমি কাজ চালিয়েছি। আজ আমার বিদায় নেওয়ার পালা । আজ আমি আপনাদের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারি না। আজ আপনাদের নতৃন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে । কারণ আমার পক্ষে আর সম্ভব নয় । এটাই আমার সভাপতির শেষ ভাষণ । এই জন্যই আপনাদের কাছে আমার কিছু বলা দরকার। এ জন্যই আজ সংক্ষেপে আওয়ামীলীগের কিছু ইতিহাস

 

বলছি। এই প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করলেই বক্তৃতা আমি দেবার পারি না। কত চেহারা ভেসে উঠে আমার সামনে । কত ত্যাগী কর্মী কারাবরণ করেছে। কত ভাই, কত সহকর্মী শহীদ হয়েছে। এদের পক্ষে দিনের পর প্রকোষ্ঠে দিন কাটিয়েছি। কত দিন আন্দোলন করতে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। তাদের কথা আমি স্মরণ না করলে অন্যায় করা হবে। কারণ, আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু তারা আমাদের মধ্যে নাই । ১৯৪৯ সালে আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চরম আঘাত আসে আওয়ামীলীগের উপর ।

শোষকগোষ্ঠীর আমাদের ভাষা ও কৃষি উপর হামলা চালায়। অত্যাচার চালায় বাংলার মানুষের উপর । কিন্ত আমরাও বসে, থাকি নাই। বাংলার জনগণ, বাংলার ছাত্র সমাজ, বাংলার যুব সমাজ, বাংলার প্রগতিশীল কর্মীরা এই হামলার মোকাবিলা করতে থাকে বার বার। কিন্তু অপরপক্ষ ছিল বড় শক্তিশালী । তাদের হাতে ছিল অস্ত্র, মেশিনগান । তাদের কাছে ছিল অর্থ, ছিল ধোকাবাজি। তারা বিশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতো ধর্মের নাম । আমার বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু ৷ তাই ধর্মের নামে ধোকা দেয়া যত সহজ, অন্য কিছুতে ততটা সহজ নয়। তাই ধর্মকে তারা ব্যবহার করলো বাংলার মানুষকে শোষণ করার বস্ত্র হিসেবে ।

 

১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ
১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

 

শোষকের নয়া ষড়যন্ত্র

১৯৫২ সালের আন্দোলনের পরে শোষকগোষ্ঠী দেখলো যে বাংলা ভাষাকে ওভাবে দাবানো যাবে না। তাই তারা ছলে বলে কৌশলে আমাদের ভাষা কৃষ্টি ও সভ্যতাকে এবং আমাদের আন্দোলনকে বানচালের চেষ্টা করতে আরম করে। ভাই ও বোনেরা, ১৯৫৪ সালের ইতিহাস আপনারা জানেন। আমরা বায়ান্ন সালে জেল থেকে বের হয়ে আসি । তিক্লান্ন সালেও আমাদের অনেক কর্মী গ্রেফতার হয়। ১৯৫৪ সালে একটা নির্বাচন দেওয়া হল। আওয়ামী লীগের নেতৃতে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। বাংলাদেশে

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সেই যুক্তফ্লন্ট। বাংলার মানুষ একতাবদ্ধ হয়। শেরে বাংলা ফজলুল হক তখন চীফ মিনিষ্টার হন। কিন্তু পাকিস্তানের শোষকগোষ্ঠী আতকে উঠে। তারা বাংলার মানুষকে একতাবদ্ধ হতে দেবে না। তাই আবার তারা আঘাত হানার চেষ্টা করে। যেদিন আমি মন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলার কেবিনেটে শপথ নিয়েছি, সেদিনের কথা আমার মনে আছে। ঠিক সেই সময় এক ঘন্টার মধ্যেআদমজীতে এক সাম্প্রদায়িক বাজার সৃষ্টি করা হলো ।

তারা ষড়যন্ত্র করলো এই সরকারকে উৎখাত করতে হবে। তাই সৃষ্টি করলো তাদের দালালদের দিয়ে এই দাঙ্গা। মানুষের জন্য তাদের কোন দরদ ছিল না। মানুষকে তারা ভালোবাসত না। ক্ষমতাকেই তারা বড় করে দেখতো । তাই চুয়ান্ন সালে তারা দাঙ্গা বাধালো আদমজীর পাট কলে । আমার মনে আছে পাঁচশ’রও বেশি লোক সেখানে মারা যায়। শপথ নিয়েই সেখানে আমরা দৌড়ে যাই। উপস্থিত হই। মোকাবিলা করি । মানুষকে বুঝাবার চেষ্টা করি। ১৯৫১ সালেও তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে বাংলার মাটিতে ।

এতে এদেশের অনেক নিরীহি লোক জীবন দেয়। এই দাঙ্গা তারা সৃষ্টি করে বাঙ্গালী জাতিকে বিভক্ত করার জন্য । কারণ, বাংলাদেশে যদি বিভেদ সৃষ্টি করা না যায়_ তাহলে তারা শাসন-শোষণ চালাতে পারবে না। এমনি করে তারা চালায় তাদের ষড়যন্ত্র! আমার মনে আছে তদানীত্তন প্রাদেশিক পরিষদের ৫০ জনের মত  সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। আমাদের কয়েক হাজার কর্মী গ্রেফতার হয়। বাংলার মানুষের উপরে অত্যাচারের স্টিম রোলার চলে। কিন্তু আমরা নিরুৎসাহ হই নাই। আমরা আরও সংঘবদ্ধভাবে সংগ্ৰাম আরম্ভ করার চেষ্টা করি। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। আওয়ামীলীগের পরিষ্কার আদর্শ আমাদের সামনে ছিল। আওয়ামী লীগের ম্যানিফেষ্টো ছিল। তাদের কর্মী ছিল, তাদের প্রতিষ্ঠান ছিল।

রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি স্তত্ত,

সহকর্মী  ভাইয়েরা , আমাদের রাষ্ট্রের চারটি আদর্শ আছে । রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তেমনি চারটি স্তত্ত থাকা প্রয়োজন। এই চারটি স্তস্ত ছাড়া কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আমি গর্বিত যে পচিশ বছরে আওয়ামীলীগ সেই স্তস্তগুলি প্রতিষ্ঠিত করেছে। পঁচিশ বছরের আওয়ামী লীগ কর্মীদের জন্য আমি গর্বিত। বার বার জনগণের সাহায্য ও সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রথম আয়োজন সঠিক নেতৃত্বের।

সঠিক নেতৃত্‌ ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আওয়ামীলীগ নেতৃত্‌ দিয়েছে। নেতারা চেষ্টা করেছেন সঠিক নেতৃত্‌ দেওয়ার জন্য। নেতৃত্বের সঙ্গে প্রয়োজন আদর্শের । যাকে অপর কথায় বলা যায় ম্যানিফেন্ট্রো। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য কি আদর্শ কি এটা থাকতেই হবে। নেতৃত্ব ও আদর্শের পরে প্রয়োজন নিঃস্বার্থ কর্মীর । নিঃস্বার্থ কর্মী ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান বড় হতে পারে না, কোন সংগ্রাম সাফল্যমভিত হতে পারে না।

 

এরপরে প্রয়োজন সংগঠনের । সংগঠন ছাড়াও কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাজ সফল হতে পারে না। সেজন্যই বলছিলাম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিষের প্রয়োজন এবং তা হচ্ছে নেতৃতু, ম্যানিফেষ্টো বা আদর্শ নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন । আমি আনন্দের সাথে বলতে পারি যে, আওয়ামীলীগের ১৯৪৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত নেতৃত্ব ছিল, আদর্শ ছিল, নিঃস্বার্থ কর্মী ছিল এবং সংগঠন ছিল । এই ভিত্তির উপরই অংগ্রামে এগিয়ে গিয়ে আওয়ামীলীগ ইতিহাস সৃষ্ট করতে পেরেছে।

আইয়ুবের সামরিক শাসন,

১৯৫৪ সালের পর অনেক ইতিহাস। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাই। ১৯৫৫ সালে আওয়ামীলীগ অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় । তারপর পূর্ণ স্বায়ত্শাসনের আন্দোলন শুরু হয়। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চলে। কিন্তু শোষক গোষ্ঠী দেখলো যে, এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। তাই ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারী করে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন। বাংলাদেশ আরও বিপদের মধ্যে গিয়ে পড়ে, কারণ সামরিক বাহিনীর শতকরা ৯৫ জন ছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের । তারা বাংলাদেশেরও সরকার দখল করল ।

মার্শাল “ল জারি করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে শোষণ করা । আমরা গ্রেপ্তার হলাম । সহকর্মীরা গ্রেপ্তার হলো। আওয়ামীলীগ পার্টি ব্যন্ড হলো, আওয়ামীলীগ কর্মীরা গ্রেপ্তার হলো। তাদের বিরুদ্ধে বহু মিথ্যা মামলা জারী করা হলো। কিন্তু তারা চুপ করে বসে রা সংখ্যাপ্তরু । তারা সংখ্যালঘু হওয়া সর্তেও বন্দুকের জোরে  বাংলার মানুষের উপর  মিলিটারি শাষন আরম্ভ করল ।। সেখান   সামরিক বাহিনী হেটকোয়াটার,আসেম্বলি সব কিছু প্রতিষ্ঠিত হলো । পনের’শ মাইল দূরের দুটি অংশ নিয়ে কোন সময় কোন একটি রাষ্ট্র হয়েছে বলে আমার জানা নাই। কিন্তু আমরা ধর্মভীরু মানুষ_ তাই পাকিস্ত নীরা ধর্মের নামে এক রাষ্ট্রের দোহাই দিতে আরম্ভ করলো ।

Bangabandhu Gurukul
১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

 

আমরা যারা ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করেছিলাম_ তারা সংগ্রাম করেছি। যারা বুঝতে চেষ্টা করে নাই_ তারা তাদের দালালী করেছে।

বাষট্টি সালের আন্দোলন,

১৯৬২ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেব গ্রেপ্তার হন। ছাত্ররা আন্দোলন শুরু . করে। আওয়ামীলীগ পার্টি তখন ব্যান্ড। অন্যান্য পার্টিও ব্যান্ড ছিল। আমরা জেল থেকে চেষ্টা করলাম, কি করে প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখা যায় এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া যায়। আমরা আওয়ামীলীগকে বাচিয়ে রাখলাম। আওয়ামীলীগ কর্মীরা যে যেখানে ছিল বিপদের সম্মুখীন হয়েও নীতি পরিবর্তন না করে, আদর্শ পরিবর্তন না করে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। আমরা চিন্তা করে দেখলাম এদের সংগে আর আমাদের চলবে না।

যেখানে আদর্শের মিল নাই-_ যেখানে মতের মিল নাই, যেখানে ভাবার মিল নাই, যেখানে চিন্তার মিল নাই সেখানে এক রাষ্ট্র চলতে পারে না। আজ কোথায় পাকিস্তান, কোথায় বাংলাদেশ। পনের’শ মাইলের ব্যবধানে তার সংগে আমাদের কোন প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নাই । এক রাষ্ট্র করা হয়েছিলো বাংলাদেশকে শোষণ করার জন্য, কলোনী করার জন্য । তারা সাড়ে সাত কোটি লোকের বাংলাদেশকে তাদের শিল্প পণ্যের বাজারে পরিণত করে। তাদের কল-কারখানার শিল্প দ্রব্য বাংলাদেশে বিক্রয় করে এখানকার অর্থ সম্পদ লুটে নেয়।

আমাদের কিছু কিছু হতেন, সামান্য ব্যবসায়ী হলেও খুশি হতেন। কিন্তু সাড়ে সাত কোটি মানুষের কথা তারা চিন্তা করতেন না। ১৯৬৪ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেব এন্তেকাল করলেন। আওয়ামীলীগকে আমরা রিভাইব করলাম । আবার আমরা আওয়ামীলীগকে অর্গানাইজ করার উদ্যোগী হলাম । এই সময় কিছু কিছু লোক আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে চলে গেল। ভালই হলো । আবর্জনা যতই যায় ততই মজল। কয়েকবারই এরকম হয়েছে। কিন্তু তাতে প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি হয় না। যাদের আদর্শ নাই, প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যায়। তাতে প্রতিষ্ঠান দূর্বল হয় না, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়। তাই ভবিষ্যতেও এ ধরণের লোকদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে আওয়ামীলীগকে আপনাদের আরো শক্তিশালী করতে হতে পারে।

পরিষ্কার রাস্তাঃ৬ দফা

ভাইয়েরা ও বোনেরা, আমরা আমাদের সহকর্মীদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট পথে যাওয়ার স্থির সিদ্ধান্ত নিলাম । তারপর অনেক ভাঙ্গা গড়া হলো। ১৯৬৯ সালে আমার দেশবাসী জানতে চায় পাকিস্তান রাস্তা কোথায়? বাঙ্গালী চায় কি? তাদের সামনে কি আছে? তখন ডিফেস অব পাকিস্তান রুল নামে একটা পদার্থ ছিল। ফাল্ডামেন্টাল রাইটস ছিল না, আইয়ুবী শাসন চলছিল তখন বাংলার মাটিতে । অত্যাচারের স্টিম রোলার চলছিল বাংলার মাটিতে আমাদের চোখের সামনে । আমি আমার সহকরমীদের নিয়ে বসলাম- পরিষ্কার পন্থা দিতে হবে।

বাংলার মানুষকে আর আমরা এভাবে শোষিত হতে দিতে পারি না। মানুষের একদিন মরতে হয়। করবো । কিন্তু পরিষ্কার রাস্তা দেখাতে হবে । ওদের সঙ্গে আমরা থাকতে পারি না। আমার বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে । বাংলার মানুষকে রক্ষা করতে হবে। বাংলার অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে । শোষণহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রবর্তন করতে হবে। কিন্তু পাকিস্ত বনের সঙ্গে থেকে বাংলার মানুষ তা কোনদিন করতে পারবে না।

এর উপায় কি? এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, ধারা মনে করেন রাতের অন্ধকারে গুলি করে কিংবা রেল লাইন তুলে দিয়ে টেরোরিজম করে বিপ্লব হয়, তারা কোথায় আছেন তারা জানেন না। এই পন্থা বহু পুরানো পন্থা । এই পন্থা দুনিয়ায় কোন দিন কোন কাজে লাগে নাই। এ পন্থা দিয়ে দেশের মানুষের কোন মঙ্গল করা যায় না। একটা রাস্তা ভেঙ্গে দিয়ে ও একজন লোককে অন্ধকারে হত্যা করে শুধু শুধু মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়।

এই টেরোরিজম দিয়ে দেশের বিপ্ব হয় না, হয় নাই, হতে পারে না। জনগণকে ছাড়া, জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে, জনগণকে আন্দোলনযুখী না করে এবং পরিষ্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোন রকম গণ-আন্দোলন হতে পারে না এবং সেখানে কোন বিপ্লব হতে পারে না। দুঃখের বিষয়, অনেকে এখনও টেরোরিজম-এ বিশ্বাস করেন। যাই হোক, ভবিষ্যতে তাদের ভুল ভাঙ্গবে । সময় থাকতে না ভাঙ্গলে তাদের ক্ষতি বেশি হবে। জনগণের ক্ষতিতো হবেই, কিন্তু তাদের ক্ষতি হবে।

পরিষ্কার রাস্তা হিসেবে ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দেয়া হলো আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষা ব্যবহার করবেন বলে হুমকী দিলেন। আইয়ুব খান বোকা ছিলেন না। আইয়ুব খান বুঝতে পারলেন, ৬-দফা আওয়ামী লীগ কেন দিয়েছে? এর পিছনে উদ্দেশ্য কি? পাকিস্তানীরা বুঝতে পেরেছে, এর উদ্দেশ্য কি এবং আমরা জানতাম আমাদের উদ্দেশ্য কি ও কোথায় আমরা যাবার চাই । কি আমরা বোঝাতে চাই ।

আগরতলা বড়যন্ত্র মামলা

৬-দফা বাংলার মানুষের মুক্তি সনদ। আমরা মুক্তি সনদ কেন দিলাম, আইয়ুব খান বুজতে পারলেন। তাই তিনি আগরতলা বড়যন্ত্র মামলা করলেন আমাদের বিরুদ্ধে-সামরিক বাহিনীর কিছু বাঙ্গালী ছেলে, বাঙালী সরকারী কর্মচারী ও আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে । তারা আমাদের কারাগারে বন্দী করবেন। আওয়ামীলীগ ভাঙ্গার জন্য পাকিস্তান থেকে কিছু নেতা এসে তখন চেষ্টা করলেন । ভাঙ্গনের কিছুটা । কিছু কিছু আওয়ামীলীগ নেতা বুঝতে না পেরে যোগদান করলেন তাদের সাথে। আমি তখন কারাগারে বন্দী ।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন, মনসুর আলী, শামসুল হক, জালাল, জহুর ও চিটাগাং এর আজিজ সহ আমার বহু সহকর্মীও বন্দী হয় । যারা বাইরে রইলো, তারা ৬-দফাকে আঁকড়ে ধরলো । তারা মোকাবেলা করলো, নেতৃত্ব দিলো। নজরুল ছিলেন এ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট, এই অবস্থায়ই তারা শুরু করলো। শাসকরা পারলো না আওয়ামী লীগকে দাবাতে।

গণ-অভ্যুত্থান

বাংলার ছাত্র জনতা রুখে দীড়ালো এর বিরুদ্ধে । গণ-আন্দৌলন শুরু হলো। ছাত্র  সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলো । ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও অন্যান্য সব প্রগতিশীল ছাত্র প্রতিষ্ঠান এঁক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করলো । তারা আওয়ামীলীগকে সক্রিয় সমর্থন দিলো এবং তাদের সঙ্গে যোগদান করলো । আইয়ুব খানের আসন নড়ে উঠলো । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা উইথড্র হয়ে গেলো । আমরা খালাস পেলাম । আবার একটা ফন্দি করা হলো ।

রাউণ্ড টেবিল কনফারেন্স। রাউ্ টেবিল কনফারেন্সের উদ্দেশ্য ছিল একটা কনষ্টিটিউশন প্রবলেম সলভ করা। আমি আমার সহকর্মী ছাড়াও কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গেলাম আমার সংগে । কারণ আমাদের বুঝতে হবে, এটা রাউ্ড টেবিল কনফারেন্স না ধোকা । আসলে এটা ছিলো বাংলাকে শোষণ করার আরেকটা ষড়যন্ত্র। তাই আপনাদের পক্ষ থেকে আমি তা রিজেন্ট করলাম। বলে দিলাম, সংশ্বাম করে বাংলার মানুষ তাদের দাবী আদায় করবে, রাউণ্ড টেবিলে বসে নয়।

ইয়াহিয়ার আবির্ভাব

আইয়ুব খান বিদায় নিলেন। ইয়াহিয়া খানকে বসিয়ে দেওয়া হলো। প্রেসিডেন্ট হয়ে বসে পড়লেন আর এক জেনারেল সাহেব! তিনি বললেন, নির্বাচন দিবেন। নির্বাচন দেওয়া হলো। আমাদের অনেকে বুঝতে পারলেন না। তারা বড় বড় ব্তৃতা করলেন, প্রশ্ন করলেন_ কেন আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি? বাংলার মানুষ যে একতাবদ্ধ, এক; বাংলার মানুষ যে বাচতে চায়,বাংলার মানুষ যে মুক্তি চায়, তার জন্য আমাদের নির্বাচনে যাওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

Bangabandhu Gurukul
১৮ জানুয়ারী ১৯৭৪ ১ম সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাওন্সিল অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণ

 

আরও পরুন :

 

 

মন্তব্য করুন