১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।ঃ মাননীয় সভাপতি, উপস্থিত সুধিবৃন্দ, ছাত্রলীগের আমার ভাই ও বোনেরা, ছাত্রলীগের সম্মেলনে আসতে হয় । আমার মন প্রাণ ঠিক রাখতে পারিনা, যদি না আসি। কোন এক বিশেষ দিনে এই ছাত্রলীগের জন্ম হয় । সেদিনের কথা চিন্তা করা কষ্টকর । কেউ চিন্তা করতে পারবেন না ১৯৪৮ সালের কথা । যেদিন ছাত্রলীগের জন্ম হয়। সে ইতিহাস কেউ ভুলবেন না। কোন রাজনৈতিক দল ছিল না। ছিলনা কোন বিরোধি দল। আজ আমরা বুঝতে পেরেছি, শুধু বুঝতেই পারি নাই, আলোচনাও করেছিলাম ।

 

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

১৯৪৭ সালে দেশ যখন বিভক্ত হয়, তখন বুঝেছিলাম যে বাংলাদেশকে খতম করা জন্য, ংলাদেশকে শোষণ করার জন্য, বাংলার মানুষকে দখল করার জন্য তথাকথিত স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালে হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালিন ১৯৪৭ সালে কলকাতার সিরাজউদ্দৌলার হোস্টেলে পরিকল্পনা হয়। আমরা ভুলে গেছি, মনে নাই। পাঁচ জন ছাত্রনেতা, যারা আমরা সাহায্য করতাম, বললাম- আমাদের পরিকল্পনা শেষ হয়ে গেছে, নতুন করে সংগ্রাম শুরু করতে হবে। ঢাকায় ফিরে এলাম কলকাতা থেকে। এটা প্রায় ২৬ বৎসর আগের কথা ।

ঢাকায় ফিরে আসার পরে যখন দেখলাম যে বাঙ্গালী জাত শেষ হয়ে গেছে, বাঙ্গালী জাত ম্লান হয়ে গেছে, বাঙ্গালী জাত বেগার হয়ে গেছে- সেদিন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নামলাম, বাংলার মানুষকে মুক্ত হতে হবে। ১৯৪৭, ৪৮ সালে আমরা কিছু কিছু সংগ্রাম শুরু করলাম। ৪৭ সালে ৪৮ সাল থেকে শুরু করে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ধারণা সব নসাৎ হয়ে গেল। ১৯৪৮ সালেই ঢাকায় নিয়ে আসা হলো, এই রেসকোর্স ময়দান তখন নাম ছিল, এখানে বক্তৃতায় জনাব জিন্নাহ বাহাদুর বলেছিলেন, উর্দুই একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হবে । তার বিরুদ্ধে কথা বলা তখন সাংঘাতিক ব্যাপার ছিল। মাথা ফাঠবে কিনা জানতাম না। প্রতিবাদ করেছিলাম ভীষণভাবে । প্রতিবাদ করেছিল বাংলার ছাত্র সমাজ। প্রতিবাদ করেছিল বাংলার বুদ্ধিজীবি সমাজ ।

জনগণ তা বুঝতে পারে নাই । আমাদের উপর হলো অত্যাচার । ১৯৪৮ সালের ১ মার্চ শুরু হয়। নয় ঘটিকার সময় আমি গ্রেফতার হয়ে যাই। আমার সহকর্মীরা গ্রেফতার হয়ে যায়। সেদিন থেকে ঘন ঘন আন্দোলন শুরু হয়। সে ইতিহাস আপনারা জানেন। সেদিনের কথা কল্পনা করতে পারবেন না, সেদিনের কথা আপনারা বুঝতে পারবেন না আপনারা, আমার ছোট ভাইয়েরা । সেই দিন দুঃখের দিন ছিল। সেদিনের কথা বললে কি হতো, আমাদের কথা আপনারা জানতেন না। রাস্তায় আমরা বেরুতে পারতাম না। বাপ আমাদের বেরুতে দিত না। পয়সা সাহায্য করে কেউ আমাদের দেখত না। রাত জেগে জেগে মোম জ্বালিয়ে আমাদের আন্দোলন করতে হয়েছিল । বাঙ্গালীর বড় দুর্দিন তখন। তখন রক্তপাতের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীকে ও বাংলাকে শেষ করার যড়যন্ত্র করা হয়েছিল ।

ছাত্র ভাইয়েরা, সেইজন্য ছাত্রলীগের কথা মনে করলে আপনাদের কথা মনে করলে আমাকে আসতে হয়। বহুদিন আমি বন্তৃতা করি না। তবুও যখন ছাত্রলীগের কথা শুনলাম । আমি অসুস্থ থাকা সত্বেও আমার আসতে হলো। ৪৫, ৪৯ সালের ইতিহাস, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ সালের আন্দোলন, ৫৮ সালে ফজলুল হকের রিটায়ার্ড, আমার গ্রেফতার । ৫৮ সালের মার্শাল ল, আইয়ুব খানের চক্ষু রাঙ্গানী। ৬২ সালে গ্রেফতার, ৬৪ সালের ৬ দফা । তারপরে স্বাধীনতা সংগ্রাম । তারপরে ধাপে ধাপে বাংলার | মানুষকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। সব ইতিহাস বিলীন হয়ে গেছে স্বাধীনতার ইতিহাসের কাছে।

 

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

 

এত রক্ত কোনদেশে কোনকালে দেখি নাই। এই রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চে আমি বলেছিলাম- “এবারের  সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্বাম”। স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি পেয়েছি কিনা জানিনা । রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছি কিনা জানিনা। পাই নাই। কেন পাই নাই? অর্থনীতি ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়া হয়েছে। ইচ্ছা করে অর্থনীতি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক মুক্তি না আসা পর্যন্ত দেশের জনগণের মুক্তি আসতে পারে না। আমি আগেই বলেছি আপনাদের কাছে, স্বাধীনতা পেয়েছি, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পাই নাই।

যে পর্যন্ত না এদেশের দু্খি মানুষ পেট ভরে ভাত না খাবে, যে পর্যন্ত না আমার দেশের মানুষ অত্যাচারির হাত থেকে না বাঁচবে, যে পর্যন্ত না শোষণহীন সমাজ না হবে। যে পর্যন্ত আমার দেশে সম্পদের সুষম বন্টন না হবে, সে পর্যন্ত আমার দেশে সত্যিকারের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসতে পারেনা । এরপর রাজনৈতিক স্বাধীনতা আনতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও কাজেরপ্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আনতে হলে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের প্রয়োজন। রাতারাতি হয় না, কোনদিন হয় নাই। রাতারাতি যদি কিছু করতে চায় তয় রাতারাতি উঠতে পারেন গাছের উপরে, রাতারাতি পরে যাবেন।

কোন পথ নাই, আন্দোলনে জাম্প করে নেতা হওয়া যায় না। কোনটা জাম্প করে নিত হয়। জাম্প করে পরে যায়। একটু একটু নিতে অনেক শিক্ষার প্রয়োজন । একদিনে হয়না, কোন জিনিস হতে পারেনা । যারা তাড়াতাড়ি হবার চান, তাড়াতাড়ি পরে যাবেন। আমার রাজনীতির জীবনে বহু দেখেছি, বহুকাল থেকে দেখে আসছি, আমার যারা সহকর্মী দেখেছি আমার সহকর্মী বন্ু-বান্ধবকে দেখেছি ৫২ এর আন্দোলন, দেখেছি মহাযুদ্ধের আন্দোলন, দেখেছি অনেক সহকর্মী, যারা আমার সাথে ছিলেন, কোথায় গেছেন? কিভাবে আছেন? কি করছেন? খবর নাই, কারণ তারা চেয়েছিলেন তাড়াতাড়ি কিছু হবার জন্য ।

পড়ে গেছেন, মিশে পেছেন নাম গন্ধ কিছু নাই। ভাইয়েরা বোনেরা আমার, আজকে দেশের অবস্থা কি? একটা কথা বলা দরকার হয়ে গেছে …. আমি খুশি হয়েছি। আমি যদি আত্ম সমালোচনা করতে না পারি, আমি যদি আত্মসংযম করতে না পারি, যদি আত্মশুদ্ধি করতে না পারি, তাহলে অন্যকে বলার অধিকার আমার নাই। যখনই আমি আমার আত্মসমালোচনা করব ছোট ভাইয়েরা ও বোনেরা, দিন ভরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কি করলামঃ রাত্রে চিন্তা করে ভেবে নেব আজ দিনে কি ভাল করলাম, কি মন্দ করলাম। পরের দিন দেখতে পাবা কি করতে পারি আর না পারি। অনেক সংশোধন হবে। খেয়ে দেয়ে শোয়ে পড়া।

তোমরা আমার ছোট ভাই, তোমরা আমার ছেলের মতো । শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে। আমি তোমাদের শাসনও করতে চাই, সোহাগও করতে চাই। তোমরা আত্মসমালোচনা কর, আত্মশুদ্ধি হও, মানুষও উৎসাহী হয়ে তোমার সাথে কাজে যোগ দিবে। না হলে হবে না, বাজে কথা । আমাকে যদি লাঠি নিয়ে, সরকারে কিছু করতে পারে নাই। ভাল কিছু করতে পারে নাই। সম্ভবপর নয়। আমি বলেছিলাম, আমি তিন বৎসর কিছু দিতে পারবনা । আর একযোগে হাত তুলে বলেছিল বাংলার | মানুষ-কিছুই চাইনা । বলতে পারেন আপনারা যে, এদেশের মানুষ চায় নাই আর আমি দেই নাই। দেবার মতো অবস্থা থাকতে হবে। এক কোটি লোক | দেশ ত্যাগ করল, এক কোটি লোক দেশে ফিরে আসল ।

 

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

দেড় কোটি লোক   গ্রামে গ্রামে ঘুরল। ৩০ লক্ষ লোক জান দিল। স্কুল-কলেজ ভেঙ্গে গেল। পোর্ট, চিটাগাং পোর্ট, মংলাপোর্ট বন্ধ হয়ে গেল। কল-কারখানা নষ্ট হয়ে গেলো। তারপরে আমি কারাগার থেকে ফিরে এলাম । লক্ষ লক্ষ ছেলে বেকার হয়ে গেল। লক্ষ লক্ষ ছেলের হাত নাই, পা নাই, লক্ষ লক্ষ মা-বোন পিতৃহারা,.ছেলে হারা হয়ে গেল। এ অবস্থায় ভাঙ্গা একটা দেশ। ইতিহাস যারা পড়েছে তারা জানে । রাশিয়ার বিপ্লবের পরে যাকে আমরা গর্ব করে শ্রদ্ধার সঙ্গে মাথা নত করে বিচার করি। করুন সে ইতিহাস, কত বৎসর যেখানে বিপ্লব হয়েছে। কত বৎসর পর্য্ত….। সমাজতন্ত্রে সোজা রাস্তা বললেও সোজা রাস্তা হয় না। অনেক কঠোর রাস্তা ।

এর ফল ভোগ করতে পারে অনেক বৎসর পরে। তাড়াতাড়ি হয় না। সোভিয়েত রাশিয়া ভোগ্র করতে পারে নাই। এখনো ৫০ লক্ষ রয়ে গেছে। সোভিয়েত দাবী করতে পারে না যে, তারা সমাজতন্ত্র কায়েম করেছে। এত সোজা না। আজ প্রায় ২৫ ব্সর ভারতবর্ষ স্বাধীনতা পেয়েছে, আজো প্রায় দুর্ভিক্ষ মহামারি । আমেরিকা দুনিয়ার উন্নত রাষ্ট্র। সেখানে আজো পর্যন্ত মানুষ না খেয়ে কষ্ট পায়। দুনিয়ার ইতিহাস দেখেন, আজ প্রায় ১৯ মাস স্বাধীনতা পেয়েছে। বাহিনী নাই, গুদামে খাবার নাই, রেল লাইন ভাঙ্গা, রেল যায় না, পোর্ট নষ্ট, সাড়ে সাত কোটি মানুষ ১৫ হাজার স্কয়ার বর্গমাইল এরা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এরা বক্তৃতা করে।

আল্লাহর কাছে শোকর করা উচিৎ। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ ছিল না। বাংলাদেশ কলোনি ছিল। এখানে কোন সরকার ছিল না। এখানে কোন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের অফিস ছিলনা । এখানে কোন ফরেইন এফেয়ার্সের অফিস ছিল না। এখানে কোন প্লানিং কমিশনের অফিস ছিল না। এখানে কোন এক্সপোর্টের অফিস ছিল না। এখানে কোন ইমপোর্টের অফিস ছিল না। যা ছিল দুইজন, তিনজন, পাঁচজন লোক ছাড়া আর কেউ জানতোও না। ভালো ভালো কর্মচারি আটকাইয়া রাখল, তাই নিয়া সরকার নিতে হলো । ব্যাংকে এক আনা পয়সা, বৈদেশিক মুদ্রা ছিল না। সাড়ে সাত কোটি লোক আমার বাংলাদেশের ।

আমি স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ । বাংলাদেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে এমন দেশ নাই। ভারতবর্ষ, রাশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন, সৌদি আমার বন্ধু রাষ্ট্র, সেটা সত্য, কিন্তু কাউকে আমার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে দিতে চাইনা । কেউ দেবে না। কিন্তু বড় দুঃখ আমার, আজকে ভারতবর্ষকে আমরা গালি দেই। কেন? অন্য কারণে নয়, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করার জন্য কিছু কিছু লোক। কেন? আমি শেখ মুজিবর রহমান তো এই সময় বাংলার মাটিতে

ছিলাম। আমিতো দেশ থেকে যাইয়া হাজার টাকা নাই, আমিতো বক্তৃতা করি নাই। আট লক্ষ টন অর্থাৎ আড়াই লক্ষ মন খাবার ভারতবর্ষ যুদ্ধের পরে আমাকে দিয়েছে। যার জন্য মিসেস গান্মীর অবস্থা আজ কাহিল হয়ে গেছে। যখন আমার বাংলার মানুষ বাঁচত না, যুদ্ধের পরে আড়াই কোটি মন খাবার আনছিলাম তার গুদাম থেকে । আজ তাকে গালি দিচ্ছি আমরা । কেন গালি দেব। সে আমার পাশের রাষ্ট্র, সুখে থাকুক । আমি তার পাশের রাষ্ট্র, সুখে থাকি। সে আমার ভাই, আমি তার ভাই। পাশপাশি । যদি আমার কাজে, আমার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে, তবে কেমন করে বাঁধা দিতে হয় শেখ মুজিবর রহমান তা জানে।

 

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

কারো শক্তি নাই বাংলায় আমার স্বাধীনতার উপর কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে । কিন্তু মিছা মিছা ধাক্কাইয়া ধাক্কাইয়া ঘা করতে চাইনা কারো সঙ্গে। দুনিয়ার সকলের সঙ্গে বন্ধৃতু চাই। দুর্দিনে সোভিয়েত আমাকে সাহায্য করেছে। দুর্দিনে ভারতবর্ষ আমাকে সাহায্য করেছে। দুনিয়ার অনেক কান্ট্রি আমাকে সাহায্য করেছে। বৃটিশ আমেরিকার জনগণ আমাদের সাহায্য করেছে। দুনিয়ার যত কোটি মানুষ আছে, আমাকে সাহায্য করেছে। অস্ট্রেলিয়া করেছে, জনসাধারণ অনেক জায়গায় করেছে। অনেক জায়গায় বেসরকারী ও সরকার মিলে করেছে। আমার বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমি সকলের কাছে আমার বন্ধুত্‌ কামনা করি।

কারো সঙ্গে আমার শত্রুতা নাই। আমার সীমানা ৫৪,০০০ ক্য়ার মাইল। আমার জনসংখ্যা সাড়ে সাত কোটি, অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা এক কোটি ত্রিশ লক্ষ, আর তার আয়তন ভারতবর্ষের আড়াই গুন। আর কেনেডার লোকসংখ্যা দুই কোটি দুই লক্ষ, আর তার আয়তন চার লক্ষ চারশ মিলিয়ন স্কয়ার মাইল। আর আমি হলাম, ৫৪ হাজার । ৩২ টা দেশের প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠক বসল। ভারতবর্ষের হলো ৫৭ কোটি, আমার হলো সাড়ে সাত কোটি, নাইজেরিয়ার ছয় কোটি, আর কোনটা দেড় লাখ, কোনটার আড়াই লাখ, কোনটার সাড়ে সাত লাখ, কোনটার ১৫ লাখ, কোনটার ৪০ লাখ, কোনটার ৩০ লাখ । আমি হাসতে হাসতে কইলাম আমার সাড়ে সাত কোটির মধ্যে তিন কোটি তোরা নিয়া যা।

আর থাকে চার কোটি লোক, সাহায্য টাহায্য চাইনা। সাহায্য আমি তোমাদের দেবার পারব তিন বৎসর পরে । আমার সাড়ে সাত কোটি লোক। জনপ্রতি একমুঠো করে আটা লাগলে আমার সাড়ে সাত কোটি মুঠ আটা লাগে। কল-কারখানায় কাজ করত না। এমন কিছু শ্রমিক আছেন, কিছু ভাল কাজ করছেন। আর একটু ভাল কাজ করেন। যত আয় করবেন, ততই আপনাদের পয়সা দেয়া হবে । আর যদি আয় না করবেন, তাহলে তালা বন্ধ করে দেয়া হবে। ছাত্র ভাইরা দেশের অবস্থা ভাল না। চোরের জ্বালায় আমিঅস্থির হেয়ে গেছি। যেদিকে তাকাই সেদিকে চোর দেখি ।

চোরের জ্বালায় অস্থির। কার কাছে ভার দেবো? যার কাছে ভার দেই, সেই করে চুরি। এ জন্যই আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম, দেখো আমি ভেবেচিন্তে কথা বলি। আমি বাজে কথা বলি না। আমি বলেছিলাম, সোনার মানুষ দেও যদি, সোনার বাংলা গড়তে পারি । আর না হলে পারব না। শেখ মুজিবকে বাইট্যা খাওয়াইলেও হবেনা । আফসোস তো সেখানে আমার, যাকে দেই যেখানে, সে সেখানে চুরি করে। এখানে আমাদের প্রয়োজন জনমত সৃষ্টি করা। ধলার ছাত্রসমাজ, তোমরা পারো, তোমাদেরকে নিয়েই আমি স্বাধীনতার সং্াম আরম্ভ করেছিলাম। তোমরা অনেকেই তখন জনাগ্রহণ কর নাই। তোমাদের আগে যারা ছাত্রলীগ করত-তারা গোপনে গোপনে জানত । আমি কি চাই এবং আমি তাদের ধরে নিয়ে আন্দোলন করাতাম |

 

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

এইভাবে যাও, ওইভাবে যাও, এই আমাদের গোল । স্বাধীনতার গোল। আজ তোমাদের আমি বলি- তোমাদের আন্দোলন করতে হবে। সং ডিসিগ্লিন দরকার। অনেকে গেছ, বিদেশে দেইখ্যা আইছ যে ভিসিগ্লিন কাকে বলে? একই সঙ্গে বাংলাদেশে যুদ্ধ হয়েছে, আজ দুঃখের সাথে বলতে চাই। অনেক দিন মুখ খুলিনা আজ খুলতে চাই কারণ আমাকে হয় প্রধানমন্ত্রীর গদি ছাড়তে হবে, না হয় আমাকে চরম আবাদ করতে হবে বাংলাদেশে । এই বাংলাদেশে আমি যা ঠিক করেছি প্রধানমন্ত্রীর জন্য তা পারি নাই তা তোমরা জান। বারবার প্রধানমন্ত্রীর অফার পেয়েছি আমি নেই নাই। আমি ফাঁসির দড়ি নিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীত নেই নাই।

তোমরা আমাকে তামসা করছ নাকি প্রধানমন্ত্রীতৃ দিয়ে। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু । আমি প্রধানমন্ত্রী কেন হবো? – তোমাদের ঘরে ঘরে শক্র। তোমাদের পেটে খাবার নাই। দুনিয়া থেকে খাবার আনতে হবে। ৩৮ লক্ষ টন খাবার আনতে হয়েছে এণার মাসে। কোথেকে আসে। অনেকে বক্তৃতা করেন- আমাদের স্বাধীনতা নাই। স্বাধীনতা নাই বক্তৃতা করেন। খবরের কাগজে উঠে। কোন স্বাধীন দেশে একথা উঠতে পারে না। আমরা প্রায় রক্ত দিয়েছি ৩০ লক্ষ লোক, তা খবরের কাগজে লেখা হলো কিভাবে, স্বাধীনতা নাই এখন খবরের কাগজে ছাপে কিন্তু দুঃখের বিষয় বলতে হয় আজো ইমার্জেন্সি পাকিস্তানে আছে।

আজো ইমার্জেন্সি ভারতবর্ষে আছে। কিন্তু আমি শেখ মুজিবুর রহমান, আমার সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, মানবাধিকারে বিশ্বাস করে, ব্যাক্তিগ্রাম শেষ হয় নাই, সংশ্াম শুরু হয়েছে। আগেও বলেছি এবং দেশ গড়ার সংগ্রাম। সমাজতন্ত্র করতে হলেস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বলেই তাড়াতাড়ি শাসনতন্ত্র দিয়েছি। কিন্তু ইমার্জেন্সি দেই নাই। যদি পাপ হয়ে থাকে জানিনা পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে কি হবে না। আর যদি দেখা হয়। অমুক তারিখে যদি মানা না হয়, অমুক তারিখ থেকে আমি স্বসন্ত্র বিপ্রব করব, যে এদেশে সরকার আছে কি নাই। তার কোন খবরের কাগজে লেখার অধিকার আছে কি নাই। আমি গণতন্ত্রকারীদের এখানে জিজ্ঞাসা করতে চাই। আমি কি কারো বিরুদ্ধে আঘাত করি। আঘাত করি নাই। সময় আসতেছে ।

তারা মনে করেছেন আমার খবরের কাগজের স্বাধীনতা নাই। এটাও বলে বাংলাদেশের অংশ তলিয়ে গেছে। শুধু খবরের কাগজে লেখে । সে খবরের কাগজ প্রয়োজন আছে নাকি বাংলাদেশের। বেশী ডর দেখাইয়া লাভ নাই। যারা আন্দোলনের ভয় দেখান, তাদের মনে রাখা উচিৎ শেখ মুজিবুর রহমান তার ডবল। যে আন্দোলনের মধ্যে পয়দা হয়েছে, তাকে আন্দৌলনের ভয় দেখাইয়েন না। যারা আন্দোলনের ভয় দেখান, তারা আন্দোলন দেখেন নাই। আমি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পয়দা হয়েছি, আন্দোলনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবো । বেশি ভয় দেখাইয়া লাভ নাই । মনে কইরেন না যে বেশী দয়ায় আমরা রাজনীতি করে গেছি। আমরা বুলেটের সামনে দাড়িয়ে রাজনীতি করেছি। স্বাধীনতার সংগ্ামে লিভ দিয়েছে আমার পার্টি, আমার জনগণ, আমার জনসাধারণ ।

আমার কথায় দিয়েছে, কারো কথায় দেয় নাই। ক্ষমা করেছি। অনেকে বলে বঙ্গবন্ধু তুমি কঠোর হও । আমি ক্ষমা করেছি। এই যদি আমার পাপ হয়ে থাকে, তবে আমাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। কত লোক গেছিল বাংলাদেশ ছাইড়া, যে গভর্ণমেন্টের হুকুম আনছ, কারা এখানে রাজনীতি করেছে, কারা এখানে ব্যবসা করেছে জানি না। রেকর্ড নাই, আছে। কেন ক্ষমতা করেছি? এরা বাংলার মানুষ, ভেবেছিলাম স্বাধীনতার পরে, এই রক্তের পরে আর রক্ত আমি দেখতে চাইনা । কিন্তু তাই কি হচ্ছে। হাজার হাজার কর্মী আমার, মার খাচ্ছে। তাদের কাছ থেকে আমি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিলাম ।

তোমরা অস্ত্র ফেরৎ দাও। তারা অস্ত্র ফেরৎ দিয়েছিল। এখন তাদের আমি রক্ষা করতে পারছি না। রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসীর দল তাদেরকে হত্যা করছে। তারা আমার কাছে এসে বলে- মুজিব ভাই, তুমি আমার অস্ত্র ফেরৎ নিয়ে গেছ, আমার অস্ত্র ফেরৎ দাও। একটা অস্ত্র দাও, দেখি আমার গায়ে কে হাত দেয়। আমিও মুক্তিযোদ্ধার চান। আমার কথায় তারা অস্ত্র দিয়েছে আর দুক্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকারে সেই কর্মীদের হত্যা করে এবং তারা বাইরে আইসা গণতন্ত্রের কথা বলে। আর ভিতরে যাইয়া অস্ত্র জোগাড় করে। আমি জানিনা বাংলাদেশ বাংলাদেশের এমন কোন মহকুমা নাই, বাংলাদেশের

বাইরে বইয়া থাকি হাত-পা ঘুটাইয়া। চালাইয়া দে, রাষ্ট্র কিভাবে চলে, তোরা দেখাইয়া দে, আমি যখন ছিলাম না। রাষ্ট্র তো তোরা চালায়ছিস, আমি যখন ছিলাম না, বন্দী ছিলাম । তখনতো স্বাধীনতা সংগম চালাইছি: আমি তোমাদের দিয়া যুদ্ধ চালাইছি, তো আমি তো এত দয়া একটু সইরা পাশে থাকি, আর ওদের কইয়া দেই এইভাবে গভর্ণমেন্ট চালা, দেখ ডাণ্ডা চলে কেমন কইরা, ঠিক চইলা যাবে। ভদ্রলোকের কথা শুনবাতো, না। যাদের কথা শোনছ ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত, এই ইয়াহিয়া খান, আইয়ুব খান ডান্ডা পিটাইয়া শোনাইছে। খুব ভাল লাগছে, আমরা ভদ্রলোক কিনা, শুননা, শুনবা বড় মসিবাত হইয়া গেছে। ভাইয়ে-বোনেরা, বড় মসিবত হইয়া গেছে, আমার টিচার ভাইয়েরা স্টাইক কইরা বইছে। একটু দয়া কর বাবা, একটু দয়া কর।

 

১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১৯ আগষ্ট ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

একটা এডুকমিশন, পে-কমিশন করেছি-আইসাই দিয়েছি। এডুকেশন কমিশন ঠিক করেছি। কিভাবে স্কুল- যত টাকা ব্যয় হয়েছে, দেইনি? আমি বাজেটে তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছি। আমি এডুকেশন ডিপার্টমেন্টে এবং কিভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি করতে কি এডুকেশন প্রয়োজন, সে সম্বন্ধে এডুকেশন কমিশন থাকবে, সরকার এ বৎসর কত করতে পারবে । পাঁচ বৎসরে কত করতে পারবে, দশ বৎসরে কত করতে পারবে, এটা ঠিকঠাক করে দেয়া হবে। গতবার ঠিক, বিশ্বাস করেন, ঠিক পরীক্ষার তিনদিন আগে স্টাইক নোটিশ দিল। আমি ডেকে আইনা বললাম, পরশু পরীক্ষা, আপনারা স্টাইক রিপোর্ট দিলেন কেমন কইরা ।

বলে- আমাদের এই দিতে হবে, ভাতা দিতে হবে। আমি মেনে নিলাম। এবারও ঠিক পরীক্ষার সময় স্টাইক কইরা বসলেন! রেসপনসিবিলিটি যেমন আমাদের আছে, রেসপনসিবিলিটি আপনাদের আছে। এদেশের ছেলে-পেলেরা আপনাদেরও ছেলে পেলে । আপনারা স্টাইক করেন সেটা কি দেইখা । আর কোথেকে টাকা দেওয়া হবে, আপনাদের সমস্ত ন্যাশনালাইজড করতে হবে। কি করে ন্যাশনালাইজ করা হবে? স্টেট বাই, আমি প্রাইমারী স্কুল কিছু করেছি। এরপরে হাই স্কুল দেখা যাক পরে। এরপরে ফাইভ ইয়ারসে কিভাবে করা যাবে । অর্থ দেখে, আয় দেখে করা হবে। টাকা আসবে কোথেকে? আমি কি ঘর বেঁচে টাকা দেব নাকি, না গরীদের গাড়ের উপর চাপিয়ে দিয়ে টাকা আদায় করে এনে আপনাদের পকেটে বরব, কন না।

আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা অনেকেই আমার সহকর্মী আছেন। স্টাইক ফিস্টাইক বাদ দেন। আপনারা ভুল করেছেন।মাওলানা ভাসানী হাংগার স্টাইক কইরা আমার কাছে ওয়াদা নিবার পারে নাই। স্টাইক ফিস্টাইক কইরা আমার কাছে ওয়াদা নিবার কেউ পারে নাই। এইটা ভুল কথা। ও আমি শিখি নাই। আমি যদি শিখতাম তাহলে যখন আপনারা স্বাধীনতা সংশ্রাম করেন, আর ইয়াহিয়া খান যখন আমার কবর করে আর শেল থেকে ফাঁসি কাষ্টে নিয়া যায়। আমার মুখ দিয়া একটা কথাও বের করতে পারে নাই। কারণ মরার আগে সাড়ে সাত কোটি মান্ষকে আমি অপমান করে থুইয়া যাইবার চাই না, যাদের নেতা আমি । সেজন্য সকলের মনে করা উচিত যে মার চাইয়া মাসির পুড়ে সে হলো ডাইনী ।

আমার চেয়ে যদি বাংলার মানুষের জন্য বেশি কারো পুড়ে- সে ডাইনী ছাড়া আর কিছুই না, আমি বলতে বাধ্য হলাম আজ। যা আছে সম্পদ, বাংলার মানুষের। তা যদি ভাগ করে দেই এবং তা-ই ভাগ ভাগ কইরা মিল্লা মিশ্যা খেতে হবে আমাদের । রাস্তা নাই, ঘাট নাই, রেলওয়ে বিজ এখন পর্যন্ত সারতে পারি নাই, পোর্ট রশিয়ারা সেড়ে দিচ্ছে একটা, রেল-লাইন পাকা এখনো হয় নাই। চরিত্র এত জগণ্য খারাপ হইয়া গেছে, পকেটমার ধরি, চোর ধরি। লজ্জীয় মরে যাই। ছাত্রলীগের ছেলে, ভাই বোনেরা, পুলিশ নিয়া নকল বন্ধ করতে হয় আমার, একথা কার কাছে কব গিয়া। এই দুঃখ কবার জায়গা আছে আমাদের? দোহাই আল্লাহর, আর যেন পুলিশ দিবার না হয়। তোমরা নকল বন্ধ কর।

ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন মিলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছ, তোমরা মিলা-মিইশা, তোমরাই গার্ড দিয়া নকল বন্ধ কর। তোমাদের আমি সাহায্য চাই, পুলিশ দিয়া নকল বন্ধ করতে দিও না তোমরা । পুলিশ দিয়া আমি চোর-ডাকাত ঠেকাবো। এইডা তোমরা করো । রর ভাইয়েরা বোনেরা আমার, আমি বলেছি যে, সোজা রাস্তা নাই সমাজতন্ত্র । একদল লোক উঠেছে, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতাছে । জীবন ভরে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমি সংগ্রাম করেছি। আপনারা বলেন, ছাত্র ভাইয়েরা তোমরা এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছ, মরেছ চারটা আদর্শের জন্য ।

জাতীয়তাবাদ, যা তোমরা বিশ্বাস কর। আমি বাঙালী, বাঙালী আমার জাতীয়তাবাদ, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার কৃষ্টি, বাঙলার সভ্যতা, বাংলার ইতিহাস, বাংলার মাটি, বাংলার আকাশ, বাংলার আবহাওয়া তাই নিয়ে আমার বাঙালী জাতীয়তাবাদ । আমি সমাজতন্ত্র বিশ্বাস করি। তোমরা তা বিশ্বাস কর। শোষণহীন সমাজ, সুষম বন্টন, সম্পদের মালিক জনগণ, তোমরা তা বিশ্বাস কর। সোজা পথ নাই- অনেক রাস্তা আছে, যেতে হবে।

 

Bangabandhu Gurukul

 

আরও পরুন :

মন্তব্য করুন