২৬ মার্চ ১৯৭৫ । সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু

২৬ মার্চ ১৯৭৫ – বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালোঃ আমার ভাই ও বোনেরা আজ ২৬ মার্চ ১৯৭৫ সাল। ৭১-এর ২৫মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষকে আক্রমণ করেছিল। হাজার হাজার লাখ লাখ লোককে হত্যা করেছিল। সেদিন রাতে বিডিআর-এর ক্যাম্পে, পুলিশ ক্যাম্পে, আমার বাড়িতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং চারদিকে আক্রমণ চালায় ও নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাশবিক শক্তি নিয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ডাক দিয়েছিলাম; ৭মার্চ আমি তাদের প্রস্তুত করে দিয়েছিলাম ।

 

২৬ মার্চ ১৯৭৫ । সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু

 

২৬ মার্চ ১৯৭৫ – বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন

যখন দেখলাম আক্রমন শুরু হয়ে গেছে, সেই মুহূর্তে আবার আমি ডাক দিয়েছিলাম যে আর নয়, মোকাবেলা করবো । বাংলার মানুষ যে যেখানে আছ, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রদের মোকাবিলা করবো । বাংলার মাটি থেকে শত্রুকে উৎখাত করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীন করতে হবে । বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। দুনিয়ার মানুষের কাছে আমি সাহায্য চেয়েছিলাম । আমার সামরিক বাহিনীতে যারা বাঙালি ছিল, আমার বিডিআর, আমার পুলিশ, আমার ছাত্র- যুবক ও কৃষকদের আমি আহ্বান করেছিলাম।

বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে মোকাবিলা করেছিল। ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মা-বোন জগণ্যতম ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল পাকিস্তানি শোষক শ্রেণী। দুনিয়ার ইতিহাসে এত রক্ত স্বাধীনতার জন্য কোন দেশ দেয় নাই, সব বাংলার মানুষ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা এমনভাবে পঙ্চিলতা শুরু করল, যা কিছু ধ্বংস করতে আরন্ত করেছিল। ভারতে আমার ১ কোটি লোক আশ্রয় নিয়েছিল; তার জন্যে আমরা নিশ্চই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবো । আমি তাদের স্মরণ করি, খোদার কাছে মাগফেরাত কামনা করি_যারা এ দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, আত্মহুতি দিয়েছে ।

আমি তাদের কথা স্মরণ করবো- যে সকল মুক্তি বাহিনীর ছেলে, যেসব মা-বোনেরা, আমার যে কর্মী-বাহিনী_ যারা আত্াহুতি দিয়েছিল, শহীদ হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে ।এদেশ তাদের সমদ্ধচিত্তে স্মরণ করে। আজ আমি স্মরণ করি ভারতীয় সেনাবাহিনীর যারা জীবন দিয়েছিল বাংলার মাটিতে । তাদের কথাও আমি স্মরণ করি। একটা কথা আপনাদের মনে আছে, তারা যাবার পূর্বে ১৩,১৪,১৫ তারিখে ১৬ ডিসেম্বরের আগে, কারফিউ দিয়ে ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গায় আমার বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল।

উদ্দেশ্য ছিল এই যে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবো, সম্পদ ধ্বংস করবো, বাঙালি স্বাধীনতা পেলেও এই স্বাধীনতা রাখতে পারবে না। ইনশাল্লাহ বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা হয়েছে। বাংলার লোক স্বাধীন হয়েছে। বাংলার পতাকা আজ দুনিয়ায় ওড়ে। বাংলাদেশ আজ জাতিসংঘের সদস্য । বাংলাদেশ আজ জোটনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সদস্য, কমনওয়েলথ-এর সদস্য, ইসলামী সামিট এর সদস্য ।বাংলাদেশ দুনিয়ায় এসেছে, বাংলাদেশ থাকবে, কেউ একে ধ্বংস করতে পারবে না। ভায়েরা- বোনেরা আমার, আমরা চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু একটা ওয়াদা আমি রাখতে পারি নাই ।

জীবনে যে ওয়াদা আমি করেছি- জীবন দিয়ে হলেও সে ওয়াদা আমি পালন করেছি। আমরা সমস্ত দুনিয়ার রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্‌ চাই। জোট নিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাস করি, আমরা কো-একজিস্টেনসে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বশান্তিতে বিশ্বাস করি । আমরা ভেবেছিলাম, পাকিস্তানিরা নিশ্চয়ই দুঃখিত হবে, আমার সম্পদ ফেরত দেবে । আমি ওয়াদা করেছিলাম তাদের বিচার করবো। এই ওয়াদা আপনাদের পক্ষ থেকে খেলাপ করেছি, তাদের আমি বিচার করিনি। আমি ছেড়ে দিয়েছি এই জন্য যে, এশিয়ার দুনিয়ায় আমি বন্ধুত্‌ চেয়েছিলাম ।

দুঃখের বিষয়_ পাকিস্তানিরা আমার সম্পদ, এক পয়সাও দিলনা, আমার বৈদেশিক মুদ্রার কোন অংশ আমাকে দিল না। আমার গোল্ড রিজার্ভের কোন অংশ আমাকে দিল না। একখানা জাহাজও আমাকে দিল না। একখানা প্রেনও আমাকে দিল না। কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পদ এক পয়সাও আমাকে দিল না এবং যাবার বেলায় পোর্ট ধ্বংস করলো, রাস্তা ধ্বংস করলো, রেলওয়ে ধ্বংস করলো, জাহাজ ডুবিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত কারেন্সি নোট জ্বালিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো ।

পাকিস্তানিরা মনে করেছিল যে, বাংলাদেশকে যদি অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের মানুষকে আমরা দেখাতে পারবো যে, তোমরা কি করছো ।ভুট্টো সাহেব বক্তৃতা করেন। আমি তাকে সমর্থন দিয়েছিলাম লাহোরে আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছিল বলে। ভুট্টো সাহেব বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা কি? ভুট্টো সাহেবকে আমি জিজ্ঞাসা করি, ফ্রন্টিয়ারের পাঠানদের অবস্থা কি? এরোপ্রেন দিয়ে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছেন। – সিন্ধুর মানুষের অবস্থা কি? ঘর সামলান বন্ধু, ঘর সামলান।

নিজের কথা চিন্তা করুন, পরের কথা চিন্তা করবেন না। পরের সম্পদ লুট করে খেয়ে বড় কথা বলা যায়। আমার সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যস্ত তোমার সাথে আমার বন্ধু হতে পারে না। তোমরা আমার কি করেছো! আমি সবার বন্ধুত্ব কামনা করি। পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নাই । কিন্ত আমার সম্পদ তাকে দিতে হবে ।আমি দুনিয়ার প্রত্যেক রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই, কারো সাথে দুশমনি করতে চাই না।

সকলের সাথে বন্ধুত্ব করে আমরা শান্তি চাই। আমার মানুষ দুঃখী, আমার মানুষ না খেয়ে কষ্ট পায়। আমি যখন বাংলাদেশ সরকার পেলাম, যখন জেল থেকে বের হয়ে আসলাম- তখন আমি শুধু বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষই পেলাম । ব্যাংকে আমার বৈদেশিক মুদ্রা ছিল না। আমার গোল্ড রিজার্ভ ছিল না। শুধু কাগজ নিয়ে আমরা সাড়ে ৭ কোটি লোকের সরকার শুরু করলাম। আমাদের গুদামে খাবার ছিল না। গত তিন-চার বছরে না হলেও বিদেশ থেকে ২২ কোটি মন খাবার বাংলাদেশে আনতে হয়েছে । ২২ কোটি টাকার মতো বিদেশ থেকে হেল্প আমরা পেয়েছি। সেজন্য যারা আমাদের সাহায্য করেছেন- সে সমস্ত বন্ধুরাষ্ট্রকে আমরা ধন্যবাদ জানাই ।

কিন্তু আর একটি কথা, অনেকে প্রশ্ন করেন, আমরা কি করেছি? আমরা যখন ক্ষমতায় আসলাম, দেশের ভার নিলাম, তখন দেশের রাস্তা-ঘাট যে অবস্থায় পেলাম, তাকে রিপেয়ার করার চেষ্টা করলাম । সেনাবাহিনী নাই, প্রায় ধ্বংস করে গেছে, পুলিশ বাহিনীর রাজারবাগ জ্বালিয়ে দিয়েছিল। সেই খারাপ অবস্থা থেকে ভালো করতে কী করি নাই? আমরা জাতীয় সরকার গঠন করলাম । আমাদের এখানে জাতীয় সরকার ছিল না, আমাদের ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ছিল না, বৈদেশিক ডিপার্টমেন্ট ছিল না, প্রানিং ডিপার্টমেন্ট ছিল না ।

এখানে কিছুই ছিল না- তারমধ্যে আমাদের জাতীয় সরকার গঠন করতে হলো । যারা শুধু কথা বলেন তারা বুকে হাত দিয়ে চিন্তা করে বলুন আমরা কি করেছি। ১কোটি লোককে ঘর বাড়ি দিয়েছি। রাষ্ট্রের লোককে খাওয়ানোর জন্য বিদেশ থেকে খাবার আনতে হয়েছে। পোর্টগুলোকে অচল থেকে সচল করতে হয়েছে। দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে ২২ কোটি মণ খাবার এনে বাংলার গ্রামে গ্রামে দিয়ে বাংলার মানুষকে বাঁচাতে হয়েছে।

তাই আজ কথা আছে। আমি মানুষকে বললাম, আমার ভাইদের বললাম, মুক্তি বাহিনীর ছেলেদের বললাম, তোমাদের অস্ত্র জমা দাও । তারা অন্ত্র জমা দিল। কিন্তু একদল লোক- আমার জানা আছে, যাদের পাকিস্তান অস্ত্র দিয়ে গিয়েছিল, তারা অস্ত্র জমা দেয়নি। তারা এসব অস্ত্র দিয়ে নিরাপরাধ লোককে হত্যা করতে শুরু. করলো। এমনকি পাঁচজন পার্লামেন্টের সদস্যকেও তারা হত্যা করলো। তবুও আমি শাসনতন্ত্র দিয়ে নির্বাচন দিলাম । কিন্ত যদি বাংলার জনগণ নির্বাচনে আমাকেই ভোট দেয়, সে জন্য দোষ আমার নয়। ৩১৫ সদস্যের মধ্যে ৩০৭ সিট বাংলার মানুষ আমাকে দিলেন। কিন্ত একদল লোক বলে, কেন জনগণ আমাকে ক্ষমতা দিল? কোনদিন কোন দেশে সশস্ত্র বিপ্রবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে কেউ কাউকে এভাবে অধিকার দেয় না।

 

২৬ মার্চ ১৯৭৫ ১ম সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো
২৬ মার্চ ১৯৭৫ ১ম সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো

 

কিন্তু অধিকার ভোগ করতে হলে তার জন্য যে রেসপনসিবিলিটি_-আছে সেটা তারা ভুলে গেলেন। আমি বললাম তোমরা অপজিশন সৃষ্টি করো। সৃষ্টি করলো । বক্তৃতা করতে আরম্ভ করলো । আমাদের মোকাবিলা করতে চায়। অস্ত্রের হুমকি দেয়া হলো । মানুষ হত্যা থেকে আরম্ভ করে রেল লাইন ধ্বংস করে, ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী ধ্বংস করে, জাহাজকে ডুবিয়ে দিয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি করলো, যাতে বিদেশী এজেন্টরা- যারা দেশের মধ্যে আছে তারা সুযোগ পেয়ে গেল। আমাদের কর্তব্য মানুষকে বাঁচানো । চারদিকে হাহাকার, স্বাধীনতা পাবার সাথে সাথে সমস্ত জিনিসের দাম আস্তে আস্তে বেড়ে গেল।

সমস্ত দুনিয়া থেকে আমাদের কিনতে হয়। খাবার কিনতে হয়, ওষুধ কিনতে হয়ে, তেল কিনতে হয়। আমরা তো কলোনি ছিলাম, দুইশ বছর ইংরেজদের কলোনি ছিলাম।২৫ বছর পাকিস্তানের কলোনি ছিলাম । আমাদের তো সবকিছুই বিদেশ থেকে কিনতে হয়। কিন্ত তারপরেও বাংলার জনগণ কষ্ট স্বীকার করে কাজ করতে আরম্ভ করেছেন। কিন্তু তারা এগুবার দেয় না, কাজ করতে দেয় না। আর একদল বিদেশে সুযোগ পেল, তারা বিদেশ থেকে অর্থ এনে বাংলার মাটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলো। স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করলো। আজ এদিনে কেন বলছি একথা ।

অনেক বলছি, এত বলার দরকার ছিল না, কিন্ত আমার চোখের সামনে মানুষের মুখ ভাসে, আত্বা। আমার চোখের সামনে যে সমস্ত শহীদ ভাইরা ভাসে, যারা ফুলের মতো ঝরে গেল, শহীদ হলো-_ তাদের আত্বার কাছে, রোজ কিয়ামতে কি জবাব দিব? আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করলাম তোমরা স্বাধীনতা নস্যাৎ করেছো? তোমরা রক্ষা করতে পার নাই।কেন সিস্টেম পরিবর্তন করলাম? সিস্টেম পরিবর্তন করেছি দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য । সিস্টেম পরিবর্তন করেছি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবার জন্য ।

এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, অফিসে যেয়ে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যায়, সাইন করিয়ে নেয়, ফি স্টাইল । ফ্যাক্টরিতে যেয়ে কাজ না করে টাকা দাবী করে। সাইন করিয়ে নেয়। যেন দেশে সরকার নাই। শ্লোগান হলো- বঙ্গবন্ধু কঠোর হও । বঙ্গবন্ধু কঠোর হবে, কঠোর ছিল, আছে। কিন্তু দেখলাম, চেষ্টা করলাম। এতো রক্ত, এতো বাধা, এতো দুঃখ- দেখি কি হয়, পারি না। আবদার করলাম । দুঃখে আবেদন করলাম, অনুরোধ করলাম, রিকোয়েস্ট করলাম, কামনা করলাম। চোরা নাহি শুনে ধর্মের কাহিনী। ভাইয়েরা বোনেরা আমার, আজকে যে সিস্টেম করেছি তার আগেও ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর কম ছিল না।

আমি বিশ্বাস করি না ক্ষমতা বন্দুকের নলে। আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমতা বাংলার জনগণের কাছে । জনগণ যেদিন বলবে, বঙ্গবন্ধু ছেড়ে দাও, বঙ্গবন্ধু একদিনও রাষ্ট্রপতি, একদিনও প্রধানমন্ত্রী থাকবে না। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে নাই। বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছে দুঃখী মানুষকে ভালোবেসে বজবন্ধু রাজনীতি করেছে শোষণহীন সমাজ কায়েম করার জন্য । দুঃখের বিষয়, তারা রাতের অন্ধকারে পাঁচজন পার্লামেন্ট সদস্যকে হত্যা করেছে, তিন-চার হাজারের মতো কর্মীকে হত্যা করেছে ।

আরেক দল দূর্ণীতিবাজ টাকা-টাকা, পয়সা-পয়সা করে পাগল হয়ে গেছে। তবে যেখানে খালি দূর্ীতি ছিল গত দুই মাসের মধ্যে সেখানে ইনশাল্লাহ কিছুটা অবস্থা ইমপ্রভ করেছে। দুর্ণীতি বন্ধ করার জন্য আজকে কিছু করা হয়েছে। হ্যা, প্রেসিডেন্সিয়াল ফরম অব গভর্ণমেন্ট করেছি।জনগণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। পার্লামেন্ট থাকবে । পার্লামেন্টের নির্বাচনে একজন দুইজন তিনজনকে নমিনেশন দেওয়া হবে। জনগণ বাছবে কে ভালো, কে মন্দ। আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র, আমরা চাই না শোষকের গণতন্ত্র এটা আমি প্রোগাম দিয়েছি।

আজকে আমাদের কাজ কি? আজকে আমাদের সামনে অনেক কাজ । আমি সকলকে অনুরোধ করবো । আপনারা মনে কিছু করবেন না, আমার কিছু উচিত কথা কইতে হবে । কারণ আমি কোনদিন ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি নাই। সত্য কথা বলার অভ্যাস আমার আছে। মিথ্যা বলার অভ্যাস আমার নাই। কিন্তু কিছুটা আপ্রয় কথা বলবো- বন্যা হলো । মানুষ না খেয়ে কষ্ট পেল, হাজার হাজার লোক না খেয়ে মরে গেল।

দুনিয়া থেকে ভিক্ষা করে আনলাম । ৫৭ হাজার লঙ্গরখানা খুললাম মানুষকে বাচাবার জন্য । সাহায্য নিয়েছি মানুষকে বীচাবার জন্য । আমি চেয়েছিলাম স্বাধীনতা । কি স্বাধীনতা? আপনাদের মনে আছে, আমার কথার মধ্যে দুইটা কথা ছিল-_ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যায়, যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা -না আসে । যদি দুঃখী মানুষ পেট ভরে ভাত খেতে না পারে, কাপড় পরতে না পারে, বেকার সমস্যা দুর না হয়, তাহলে মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসতে পারে না। আজ কে দুর্ণীতিবাজ? যে ফাকি দেয়- সে দূর্ণীতিবাজ যে ঘুষ খায়- সে দূর্ণীতিবাজ।

যে স্মাগলিং করে- সে দূর্ণীতিবাজ। যে ব্লাক মাকেটিং করে- সে দূর্ণীতিবাজ। যে হোর্ড করে সে দূর্ণীতিবাজ। যারা কর্তব্য পালন করে না- তারা দূর্ণীতিবাজ। যারা বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করে তারাও দূর্ণীতিবাজ। যারা বিদেশের কাছে দেশকে বিক্রি করে তারাও দূর্ণীতিবাজ।এই দূর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম শুরু করতে হবে। আমি কেন ভাক দিয়েছি। এই ঘ্বুণে ধরা ইংরেজ আমলের, পাকিস্তানি আমলের যে শাসন ব্যবস্থা _ তা চলতে পারে না। একে নতুন করে ঢেলে সাজতে হবে। তাহলে দেশের মঙ্গল আসতে পারে, না হলে আসতে পারে না।

আমি তিন বছর দেখেছি। দেখে শুনে আমি আমার স্থির বিশ্বাসে পৌছেছি এবং তাই জনগণকে পৌছিয়ে দিতে হবে শাসনতন্ত্রের মর্মকথা । আজকে জানি, আপনাদের কষ্ট হচ্ছে। আমি জানি না খেয়ে কষ্ট পাচ্ছেন । আমার চেয়ে অধিক কে জানতে পারে? বাংলার কোন্‌ থানা আমি ঘুরি নাই, বাংলার কোন্‌ জায়গায় আমি যাই নাই, বাংলার মানুষকে আমার মতো কে ভালো করে জানে? আপনারা দুঃখ পান, না খেয়ে আছেন, আপনাদের গায়ে কাপড় নাই, আপনাদের শিক্ষা দিতে পারছি না।

কিন্তু সবচেয়ে বড় জিনিস খাদ্য। একটা কথা বলি আপনাদের কাছে, সরকারি আইন করে কোনদিন দূর্মীতিবাজদের দমন করা সম্ভব নয়- জনগণের সমর্থন ছাড়া। আজকে আমার একমাত্র অনুরোধ আপনাদের কাছে, সেটা হলো এই- আমি বলেছিলাম, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে জেহাদ করতে হবে, যুদ্ধ করতে হবে শত্রুর বিরুদ্ধে। আজকে আমি বলবো, বাংলার জনগণের এক নম্বর কাজ হবে, দূর্ীতিবাজদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে । আমি আপনাদের সাহায্য চাই। কেমন করে করতে হবে_ আইন চালাবো, ক্ষমা করবো না। যাকে পাবো ছাড়বো না। একটা কাজ আপনাদের করতে হবে। গণআন্দোলন করতে হবে। আমি গ্রামে গ্রামে নামবো। এমন আন্দোলন

করতে হবে, যে ঘুষখোর, যে দূর্ণীতিবাজ, যে মুনাফাখোর, যে আমার জিনিস বিদেশ চোরাচালান দেয়- তাদের সামাজিক বয়কট করতে হবে। গ্রামে গ্রামে মিটিং করে দেখতে হবে, এ চোর, এ ব্লাকমার্কেটিয়ার, এ ঘুষখোর । ভয় নাই, কোন ভয় নাই, আমি আছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের উপর অত্যাচার করতে দিব না। কিন্তু আপনাদের গ্রামে গ্রামে আন্দোলন করতে হবে । আন্দোলন করতে পারে কে? ছাত্র ভাইরা পারে, পারে কে? যুবক ভাইরা পারে। পারে কে? বুদ্ধিজীবীরা পারে। পারে কে? জনগণ পারে । আপনারা সংঘবদ্ধ হন।

ঘরে ঘরে আপনাদের দুর্গ গড়তে হবে। সে দুর্গ গড়তে হবে দূর্ীতিবাজদের খতম করার জন্য । বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচন করার জন্য ।এই দুর্ণীতিবাজদের যদি খতম করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ দুঃখ চলে যাবে। এত চোরের চোর, এই চোর যে কোথা থেকে পয়দা হয়েছে, তা জানি না। পাকিস্তান সব নিয়ে গিয়েছে কিন্ত এই চোরদের তারা নিয়ে গেলে বাচতাম। এই চোর রেখে গিয়েছে।

কিছু দালাল গিয়েছে, চোর গেলে বেঁচে যেতাম। দ্বিতীয় কথা, আপনারা জানেন- আমার দেশের এক একর জমিতে যে ফসল হয়, জাপানের এক একর জমিতে তার তিনগুণ ফসল হয়। কিন্তু আমার জমি দুনিয়ার সেরা জমি। আমি কেন সেই জমিতে ডবল ফসল করতে পারবো না, দিগুণ করতে পারবো না? আমি যদি দিগুণ করতে পারি_ তাহলে আমাকে খাদ্য কিনতে হবে না, ভিক্ষা করতে হবে না। ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত নাই।

একটা লোককে আপনারা ভিক্ষা দেন এক টাকা বা আট আনা। তারপর তার দিকে কিভাবে চান বলেন, ও বেটা ভিক্ষুক, যা বেটা, নিয়ে যা আট আনা পয়সা । একটা জাতি যখন ভিক্ষুক হয়, মানুষের কাছে হাত পাতে, আমারে খাবার দাও, আমারে টাকা দাও- সেই জীতির ইজ্জত থাকতে পারে না। আমি সেই ভিক্ষুক জাতির নেতা থাকতে চাই না। আমি চাই বাংলাদেশের প্রত্যেক কৃষক ভাইয়ের কাছে, যারা সত্যিকার কাজ করে, যারা প্যান্ট পরা, কাপড় পরা ভদ্রলোক তাদের কাছেও চাই- জমিতে যেতে হবে, ডবল ফসল করুন।

প্রতিজ্ঞা করুন, আজ থেকে এ শহীদদের কথা স্মরণ করে ডবল ফসল করতে হবে। যদি ডবল ফসল করতে পারি, আমাদের অভাব ইনশাআল্লাহ হবে না। ভিক্ষুকের মতো হাত পাততে হবে না। আমি পাগল হয়ে যাই চিন্তা করে। এ বছর ১৯৭৫ সালে আমাকে ৬ কোটি মণ খাবার আনতে হবে । কি করে মানুষকে বাচাবো।

কি করে অন্যান্য জিনিস কিনবো । অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্র সাহায্য দিচ্ছে বলে বেঁচে আছি। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না। আমাদের স্বয়ংস্পূর্ণ হয়ে পায়ের উপর দাড়াতে হবে জাতি হিসেবে । জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না- আমাদের প্রত্যেক বছর ৩০ লাখ লোক বাড়ে। আমার জায়গা হলো ৫৫ হাজার বর্ণমাইল।

 

২৬ মার্চ ১৯৭৫ ২য় সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো
২৬ মার্চ ১৯৭৫ ২য় সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো

 

২৬ মার্চ ১৯৭৫ ২য় সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো

যদি আমাদের প্রত্যেক বছর ৩০ লাখ বাড়ে তাহলে ২৫-৩০ বছরে বাংলায় কোন জমি থাকবে না চাষ করার জন্য । বাংলার মানুষ, বাংলার মানুষের মাংস খাবে । সে জন্য আজকে আমাদের পপুলেশন কন্ট্রোল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে হবে। এটা হলো ৩ নম্বর কাজ। এক নম্বর হলো- দর্ণীতিবাজ খতম কর, দুই নম্বর হলো- কারখানায় ক্ষেতে-খামারে প্রোডাকশন বাড়ান। তিন নম্বর হলো- পপুলেশন প্লানিং। চার নম্বর হলো-জাতীয় এঁক্য। জাতীয় এঁক্য গড়ার জন্য একদল করা হয়েছে।

যারা বাংলাকে ভালোবাসে, এর আদর্শে বিশ্বাস করে, চারটি রাষ্ত্রীয় আর্দশ মানে, সৎপথে চলে তারা সকলেই এ দলের সদস্য হতে পারবেন । যারা বিদেশী এজেন্ট, যারা বহিঃশক্রর কাছ থেকে পয়সা নেয়, এতে তাদের স্থান নাই। সরকারি র্মচাকরীরাও এই দলের সদস্য হতে পারবে। কারণ তারাও এই জাতির একটা অংশ। তাদেরও অধিকার থাকবে এই দলের সদস্য হবার। এই জন্য সকলে যে যেখানে আছি, একতাবদ্ধ হয়ে দেশের কাজে লাগতে হবে ।

ভায়েরা, বনেরা আমার

এই জাতীয় দলের আপাতত ৫ টা ব্রাঞ্চ হবে। একটা শ্রমিক ভাইদের অঙ্গদল, কৃষক ভাইদের একটা, যুবক ভাইদের একটা, ছাত্রদের একটা এবং মহিলাদের একটা । এই ৫ টা অঙ্গদল মিলে কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ | আমাকে অনেকে বলে কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ হলে আমাদের কি হবে । আমি বলি আওয়ামী মানে তো জনগণ, ছাত্র-যুবক শিক্ষিত সমাজ, সরকারি কর্মচারী সকলে মিলে কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ ।

শিক্ষিত সমাজকে আমি অনুরোধ করবো, আমরা কতজন শিক্ষিত লোক। আমরা শতকরা ২০ জন শিক্ষিত লোক, তার মধ্যে সত্যিকার অর্থে আমরা শতকরা পাঁচজন শিক্ষিত। শিক্ষিতদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমি যে এই দুর্ণীতির কথা বললাম, আমার কৃষক দূর্ণীতিবাজ? না। আমার শ্রমিক? না। তাহলে ঘুষ খায় কারা? ব্লাকমার্কেটিং করে কারা? বিদেশী এজেন্ট হয় কারা? বিদেশে টাকা চালান দেয় কারা- এই আমরা । শতকরা ৫ জন শিক্ষিত, এই আমাদের মধ্যেই ঘুষখোর, দূর্ণীতিবাজ। আমাদের চরিত্রের সংশোধন করতে হবে।

আত্মশুদ্ধি করতে হবে। দূর্ণীতিবাজ এই শতকরা ৫ জনের মধ্যে, এর বাইরে নয়। শিক্ষিত সমাজকে একটা কথা বলবো, আপনার চরিত্রের পরিবর্তন হয় নাই। একজন কৃষক যখন আসে খালি গায়ে লুঙ্গি পরে, আমরা বলবো, এই বেটা কোথেকে আইছিস, বাইরে বয়, বাইরে বয়। একজন শ্রমিক যদি আসে, বলি, এখানে দীড়া। এই রিকশাওয়ালা, ধভাবে বসিস না। তাচ্ছিল্যের সাথে কথা বলি, তুচ্ছ করে । এর পরিবর্তন করতে হবে। আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় গরিব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় এ গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে এ টাকায় ।

আমরা গাড়ি চড়ি এঁ টাকায় । ওদের সম্মান করে কথা বলুন। ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক, ওদের দ্বারাই আপনার সংসার চলে। সরকারি কর্মচারীদের বলি, মনে রেখো এটা স্বাধীন দেশ। এটা বৃটিশের কলোনি নয়, পাকিস্তানের কলোনি নয়। যে লোককে দেখবে তার পয়সা, ওরাই সম্মান বেশি পাবে। কারণ ওরা নিজেই কামাই করে খায়। একটা কথা আমি জিজ্ঞাসা করি কিছু মনে করবেন না। আমাদের লেখাপড়া শিখিয়েছে কে? ডাক্তারি পাস করায় কে? ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করায় কে? সায়ে্স পাস করায় কে? বৈজ্ঞানিক করে কে? অফিসার করে কে? কার টাকায়? বাংলার দুঃখী জনগণের টাকায়।

একজন ডাক্তার হতে সোয়া লাখ টাকার মতো খরচ পড়ে। একজন ইঞ্জিনিয়ার করতে ১ লাখ সোয়া লাখ টাকার মতো খরচ পড়ে। বাংলার জনগণ গরিব। কিন্তু এরাই ইঞ্জিনিয়ার বানাতে টাকা দেয়, মেডিক্যালের টাকা দেয় একটা অংশ। আপনাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শিক্ষিত ভাইদের, যে আপনার লেখাপড়ার খরচ দিয়েছে, তা শুধু আপনার সংসার দেখার জন্য নয়- শুধু আপনার ছেলেমেয়েদের দেখার জন্য নয়। দিয়েছে তাদের জন্য আপনি কাজ করবেন, তাদের সেবা করবেন বলে। তাদের আপনি কি দিয়েছেন? কি ফেরত দিয়েছেন? কতটুকু দিচ্ছেন? তার তার টাকায় রাজনীতিবিদ সাহেব ।

তার টাকায় মেম্বার সাহেব, তার টাকায় সব সাহেব। আপনি দিচ্ছেন কি? কি ফেরত দিচ্ছেন? আত্বসমালোচনা করেন, বক্তৃতা করে লাভ নাই। রাতের অন্ধকারে খবরের কাগজের কাগজ রাকমার্কেটিং করে সকাল বেলা বড় বড় কথা লেখার দাম নাই। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মদ খেয়ে অনেস্টির কথা বলার দাম নাই। আত্মসমালোচনা করুন, আত্মশুদ্ধি করুন, তা হলেই হবেন মানুষ । এই যে কি হয়েছে সমাজের ।

২৬ মার্চ ১৯৭৫ । সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু

সমাজ ব্যবস্থায় যেন ঘুণ ধরে গেছে। এই সমাজের প্রতি চরম আঘাত করতে চাই- যে আঘাত করেছিলাম পাকিস্তানিদের । সে আঘাত করতে চাই এই দ্বুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে । আমি আপনাদের সমর্থন চাই। আমি জানি আপনাদের সমর্থন আছে কিন্ত একটা কথা, এই যে নতুন সিস্টেমে যেতে চাচ্ছি আমি, গ্রামে গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে। ভুল করবেন না। আমি আপনাদের জমি নেব না। ভয় পাবেন না যে, জমি নিয়ে যাবো । তা নয়। পাঁচ বছরের প্ল্যান- এই বাংলাদেশের ৬৫ হাজার গ্রামে কো-অপারেটিভ হবে। প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে এই কো-অপারেটিভ-এ জমির মালিকের জমি থাকবে।

কিন্ত তার অংশ- যে বেকার, প্রত্যেকটি মানুষ, যে মানুষ কাজ করতে পারে, তাকে কো-অপারেটিভ-এর সদস্য হতে হবে । এগুলো বহুমুখী কো-অপারেটিভ হবে। পয়সা যাবে তাদের কাছে, ফার্টিলাইজার যাবে তাদের কাছে, টেস্ট রিলিফ যাবে তাদের কাছে, ওয়ার্কাস প্রোগ্রাম যাবে তাদের কাছে। আস্তে আস্তে ইউনিয়ন কাউন্সিল টাউটদেরকে বিদায় দেওয়া হবে, তা না হলে দেশকে বাচানো যাবেনা । এই জন্যই ভিলেজ কো-অপারেটিভ হবে। আমি ঘোষণা করছি আজকে যে, পাচ বছরের প্ল্যানে প্রত্যেকটি গ্রামে পাঁচশত থেকে হাজার ফ্যামিলি পর্যন্ত নিয়ে কম্পলসারি কো-অপারেটিভ হবে।

আপনাদের জমির ফসল আপনি নেবেন। অংশ যাবে কো- অপারেটিভের হাতে, অংশ যাবে গভর্ণমেন্টের হাতে । দ্বিতীয়. থানায় থানায় একটি করে কাউন্সিল হবে। এই কাউন্সিলে রাজনৈতিক কর্মী, সরকারি কর্মচারী যেই হয়-একজন তার চেয়ারম্যান হবেন। এই থানা কাউন্সিলে থাকবে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সরকারি কর্মচারী । তার মধ্যে আমাদের কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি থাকবে, যুবক প্রতিনিধি থাকবে, কৃষক প্রতিনিধি থাকবে- তারাই থানাকে চালাবে । আর মহকুমা থাকবে না, সমস্ত মহকুমা জেলা হয়ে যাবে। সেই মহকুমায় একটি করে এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল থাকবে ।

সব কর্মচারী এক সাথে তার মধ্যে থাকবে । এরমধ্যে পিপলস রিপ্রেজেন্টেশন থাকবে । পার্টি রিপ্রেজেন্টেশন হবে, তার চেয়ারম্যান থাকবে । সেখানে তারা সরকার চালাবেন- এইভাবে আমি একটা সিস্টেমের চিন্তা করছি এবং করবো বলে ইনশাআল্লাহ আমি ঠিক করেছি। আপনাদের সাহায্য ও সহানুভূতি চাই।

 

২৬ মার্চ ১৯৭৫ ২য় সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো
২৬ মার্চ ১৯৭৫ ২য় সালের মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন । নিচে তার বিবরণ উদ্ধৃত হালো

 

ভাই ও বোনেরা আমার,

আজকে একটা কথা বলি। আমি জানি শ্রমিক ভাইয়েরা, আপনাদের কষ্ট আছে। এত কষ্ট, আমি ভুলতে পারছি না। বিশেষ করে ফিক্সড ইনকাম গ্রুপের কষ্টের সীমা নাই । কিন্তু কোথা থেকে হবে? টাকা ছাপিয়ে বাড়িয়ে দিলেই তো দেশের মুক্তি হবেনা । ইনফ্লেশন হবে। প্রোডাকশন বাড়াতে পারলে তারপরেই আপনাদের উন্নতি হবে, না হলে উন্নতি হবে না। আমি জানি। যেমন আমরা আজকে দেখেছি । কপাল । আমাদের কপাল । আমরা গরিব দেশ তো। আমাদের রূপাল- আমাদের পাটের দাম নাই। আমার চায়ের দাম নাই ।

আমরা বেঁচতে গেলে অল্প পয়সায় আমাদের বিক্রি করতে হয়। আর আমি যখন কিনে আনি- যারা বড় বড় দেশ, তারা তাদের জিনিসের দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়। আমরা বাচতে পারি না। আমরা এই জন্য বলি, তোমরা মেহেরবানি করে যুদ্ধের মনোভাব বন্ধ করো। আরমামেন্ট রেস বন্ধ করো। তোমরা অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করো। ওই সম্পদ দুনিয়ার দুঃখী মানুষকে বাচাবার জন্যে ব্যয় করো। তাহলে দুনিয়ায় শান্তি ফিরে আসবে । আজকে তোমরা মনে করছো আমা গরিব-

হে মোর দৃর্ভাগা দেশ যাদের

করেছো অপমান

অপমানে হতে হবে তাদের

সবার সমান ।

তোমরা মনে করেছো আমরা গরিব, যে দামই হোক আমাকে বিক্রি করতে হবে। এইদিন থাকবে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষ, আমাদের মাটি আছে, আমার সোনার বাংলা আছে, আমার পাট আছে, আমার গ্যাস আছে, আমার চা যদি.ডেভেলপ করতে পারি, ইনশাআল্লাহ এদিন থাকবেনা । তোমরা আজকে সুযোগ পেয়ে জাহাজের ভাড়া বাড়িয়ে দাও। জিনিসের দাম বাড়িয়ে দাও। আর তাই আমাদের কিনতে হয়। আমরা এখানে না খেয়ে মরি, আমাদের ইনফ্লেশন হয়, আমরা বাচতে পারি না। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যাই, তোমরা কিছু খয়রাত দিয়ে একটু মিষ্টি হাসো। হাসো, হাসো। দুঃখে পড়েছি, বিক্রিতো হয়েছি।

তোমাদের কাছে হাত পাততে হবে, হাসো। অনেকে হেসেছে- যুগ যুগ ধরে হেসেছে। হাসো । আরব ভাইয়েরাও গরিব ছিল। আরব ভাইদের সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করছি। প্যালেস্টাইনের আরব ভাইদের ন্যায্য দাবি সমর্থন করে বাংলার মানুষ । আরব ভাইদের পিছনে তারা থাকবে প্যালেস্টাইন উদ্ধার করার জন্য। এও আমাদের পলিসি । যেখানে নির্যাতিত দুঃখী মানুষ সেখানে আমরা থাকবো । শ্রমিক ভাইয়েরা, আমি শ্রমিক প্রতিষ্ঠান করছি। আপনাদের প্রতিনিধি ইন্ডাস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট, লেবার ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ শ্রমিক প্রতিনিধিবসে একটা করতে হবে।

সেই প্ল্যান অনুযায়ী কি করে আমরা বাঁচতে পারি- তার বন্দোবস্ত করতে হবে। ছাত্র ভাইয়েরা, আপনারা লেখাপড়ার কাজ শিখেন। আমি খুশি হয়েছি যে, আপনারা নকল-টকল বন্ধ করেছেন একটু । কিন্তু একটা কথা আমি বলবো, আমি পেপারে দেখেছি যে এবারে প্রায় এক পার্সেন্ট পাস, – দুই পার্সেন্ট পাস, তিন পার্সেন্ট পাস। শিক্ষক সম্প্রদায়ের মর্জি দুই পার্সেন্ট পাস করিয়ে আপনাদের কর্তব্য পালন করলেন। আপনাদের কর্তব্য আছে, ছেলেদের মানুষ করতে হবে। ফেল করানোতে আপনাদের তেমন বাহাদুরি নাই, পাস করালেই বাহাদুরি আছে।র আপনাদে কর্তব্য পালন করুন ।

খালি ফেল করিয়ে বাহাদুরি নিবেন_ তা হয় না। তাদের মানুষ করুন। আমি তো শিক্ষকদের বেতন দিব। আমরা সব আদায় করবো। আপনারা লেখাপড়া শিখান, আপনারা তাদের মানুষ করুণ । শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন, রাজনীতি একটু কম করুন। তাদের একটু শিক্ষিত করার চেষ্টা করুন। একটু সংখ্যা বাড়ান, শুধু ১%,২%,৫% দিয়ে বাহাদুরি দেখিয়ে বলবেন খুব স্টিক হয়েছি। আমি সন্থস্তি চাই, নকল করতে দিবেন না। তবে আপনাদের কাছে মানুষ করার চেষ্টা করুন। পাসের সংখ্যা বাড়াবার চেষ্টা করুন। ওদের মানুষের মতো মানুষ তৈরি করুন। সেটাই ভালো হবে। রাগ করবেন না।

আপনারা আবার আমার উপর রাগ করেন। আমি বুদ্ধিজীবীদের কিছু বলি না। তাদের শুধু সম্মান করি। শুধু এইটুকুই বলি যে, বুদ্ধিটা জনগণের খেদমতে ব্যয় করুন। এর বেশি কিছু বলি না। বাবা, ওদের কিছু বলে কি বিপদে পড়বো । আবার কে কি লিখে বসবে । খালি সমালোচনা করলে লাভ হবে না। আমার যুবক ভাইরা, আমি যে কো-অপারেটিভ করতে যাচ্ছি গ্রামে গ্রামে এর উপর বাংলার মানুষের বাঁচা-মরা নির্ভর করবে। আপনাদের ফুলপ্যান্টটা একটু হাফপ্যান্ট করতে হবে। পায়জামা ছেড়ে একটু লুঙ্গি পরতে হবে । আর গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই কো-অপারেটিভকে সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্য কাজ করে যেতে হবে ।

যুবক চাই, ছাত্র চাই, সকলকে চাই। আর একটা কথা বলতে চাই, বিচার । বাংলাদেশের বিচার ইংরেজ আমলের বিচার । আল্লাহর মর্জি যদি সিভিল কোর্টে কেস পড়ে সেই মামলা শেষ হতে লাগে প্রায় ২০ বছর। আমি যদি উকিল হই, আমার জামাইকে উকিল বানিয়ে কেস দিয়ে যাই। এ মামলার ফয়সালা হয় না। আর যদি ক্রিমিনাল কেস হয়- তিন বা চার বছরের আগে শেষ হয় না। এই বিচার বিভাগকে নতুন করে এমন করতে হবে, যে থানায় ট্রাইবুনাল করার চেষ্টা করছি এবং সেখানে মানুষ এক বছর বা দেড় বছরের মধ্যে বিচার পাবে_ তার বন্দোবস্ত করছি। আশা করি সেটা হবে ।

তাই আমি একথা জানতে চাই আপনাদের কাছে, জানতে চাই একটি কথা । এই যে চারটি প্রোগ্রাম দিলাম, এই যে আমি কো-অপারেটিভ যে আপনাদের কাছ থেকে দিগুণ ফসল চেয়েছি, জমিতে যে ফসল হয় তার ডবল। কল-কারখানা কাজ- সরকারি কর্মচারী ভাইরা একটু ইনডিসিগ্রিনে এসে গেছে। অফিসে যান, কাজ করেন। আপনাদের কষ্ট আছে, আমি জানি। দুঃখী মানুষ আপনারা । আপনারা কাজ করেন। আপনাদের কষ্ট আছে, আমি জানি । দুঃখী মানুষ আপনারা । আপনারা কাজ করেন। যাদের পেটে খাবার নাই, তাদের উপর ট্যাক্স বসিয়ে আমি আপনাদের পোষতে পারবো না।

প্রোডাকশন বাড়লে আপনাদেরও এদের সাথে উন্নতি হবে। এই যে কথাগুলো বললাম আপনারা আমাকে সমর্থন করেন কিনা, আমার উপর আপনাদের আস্থা আছে কিনা, আমাকে দুই হাত তুলে দেখিয়ে দিন। ভায়েরা, আবার দেখা হবে। কি বলেন, ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে। আপনারা বহুদূর থেকে কষ্ট করে এসেছেন । গ্রামে গ্রামে ফিরে যান। যেয়ে বলবেন দূর্ীতিবাজদের খতম করতে হবে। ক্ষেতে-খামারে, কল- কারখানায় প্রোভাকশন বাড়াতে হবে । সরকারি কর্মচারী ভাইরা, আপনারাও কৃষক-শ্রমিক আওয়ামীলীগের সদস্য হবেন। আপনারা প্রাণ দিয়ে কাজ করুন। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এসেছে, বাংলাদেশ থাকবে । আপনারা স্রোগান দিন আমার সাথে- জয় বাংলা ।

বিদায় নিচ্ছি।

>>>খোদা হাফেজ<<<<

 

Bangabandhu Gurukul

 

আরও পরুন :

মন্তব্য করুন