২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ । ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণঃ আমার ভৈরবের ভাই ও বোনেরা, আমি জেলখানা থেকে আসার পরে আপনাদের কাছে আসতে পারি নাই। ভাইয়েরা আপনারা জানেন যে, পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী কি অত্যাচার করেছে আপনাদের উপরে । পঁচিশ বৎসর পর্যন্ত পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। ভৈরববাসীদের আমার বলতে হবে না ভৈরবের জনসাধারণ জানে, প্রাণ দিয়ে জানে, সম্পদ দিয়ে জানে কি করে এই ভৈরবের উপরে এ্যারোপ্রলেন দিয়ে আঘাত করে এই ভৈরবকে ধ্বংস করে দিয়েছিল পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী ।

 

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ । ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ । ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

কি করে এই ভৈরবের হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী । পাকিস্তান আমার বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। কোটি কোটি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। এক কোটি লোক দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। আর সমস্ত সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পরে জেল থেকে বের হয়ে এসে আমি দেখলাম- বাংলাদেশে কিছু নাই। সব শেষ করে দিয়ে গেছে। আমার সাড়ে সাত কোটি মানুষ পথের ভিখারী হয়ে গেছে। ঘর নাই, বাড়ি নাই, টাকা নাই, রাস্তা নাই, চাল নাই, গ্যাস নাই, তেল নাই- নাই, নাই আর নাই। বাংলার মাগফিরাত কামনা করি।

বাংলার মানুষকে রক্ষা করতে হবে। দুনিয়ার বন্ধু ভারতবর্ষ আমাকে নয় লক্ষ টন খাবার লি। দুনিয়ার বন্ধু রাষ্ট্র এগিয়ে আসল । জনগণের সাহস দিয়ে, সহানুভূতি দিয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম বাংলার মানুষকে রক্ষা করার জন্য, আজ আমার বড় সুখের দিন। কারণ পাকিস্থানের বর্বর বাহিনী তখন রেলের ব্রিজ ভেঙ্গে দিয়েছিল। বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রে সাহায্য নিয়ে আমরা এই ব্রিজগুলি মেরামত করি। বিশেষ করে ভারতবর্ষ আমাদের ইঞ্জিনিয়ার, লোক, টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করে। একটা ব্রিজ বাকী ছিল__ যার সঙ্গে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার সম্বন্ধ ছিল। এটা ছিল ভৈরব বিজ। মালপত্র পাঠাতে পারতাম না। মাল এসে চট্টগ্রামে জমা হয়ে আছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ধ্বংস করে দিয়েছিল। মংলা বন্দর ধ্বংস করে দিয়েছিল। আজ বড় আনন্দের দিন। আমি বলেছিলাম- ভৈরব আমি সেইদিন যাবো, যেদিন এই ব্রিজ মেরামত হবে । আমি তাই আপনাদের কাছে এসেছি, আজ ওপেন করার জন্য । আজ মেরামত হয়ে গেছে, আজ রেল লাইন চলবে । চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ও অন্য জায়গায় যাওয়া যাবে । আমি ভারত সরকার, ভারতের জনসাধারণকে আপনাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই । ভারতের উপমন্ত্রী জনাব….. এসেছেন। তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই যে সমস্ত ভারতের ভাইয়েরা এখানে কাজ করেছেন। নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে তাদের আমি মোবারকবাদ জানাই ।

বন্ধু ভেবে যে খাদ্য আমাকে দিয়েছে ভারত সরকার- তাদের আমি অভিনন্দন জানাই । অভিনন্দন জানাই আমার রেলওয়ে কর্মচারীদের । যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এতগুলি ব্রীজকে মেরামত করতে সাহায্য করেছে এবং ৩০০ ব্রিজ আজ আমাদের মেরামত হয়ে গেছে ইনশাল্লাহ। রাস্তা প্রায় মেরামত হয়ে আসছে, বিদেশ থেকে মালপত্র আনতে হবে। ভাইয়েরা আমার, একদিনে নয়- আপনারা নিজ চোখে দেখেছেন ভৈরব বন্দর, বারবার ওখানে গেছি, কত সভা আমি করেছি, কত জায়গা আমি ঘুরেছি। এই ভৈরবের ঘরে ঘরে মানুষ আমাকে চেনে এবং ঘরে ঘরে মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে।

 

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

আজ আমাদের কি আছে? সাড়ে সাত কোটি মানুষ, আমাদের গুদামে খাবার ছিল না, আমাদের গায়ে কাপড় ছিল না। পাকিস্তানীরা বৈদেশিক মুদ্রা লুট করে নিয়ে গেছে। আমাদের জাহাজ ছিল না। আমাদের প্রেন ছিল না। আমাদের কিছুই ছিল না, কিন্তু ইনশাল্লাহ আমরা চালায়ে নিয়েছি। ভাইয়েরা বোনেরা, এই বিশ মাসের মধ্যে আটত্রিশ লক্ষ টন খাবার, সাড়ে সাতাশ মনে এক টন। আটত্রিশ লক্ষ টন খাবার । বন্ধুদেশের সাহায্যে বিদেশ থেকে এবং বাংলাদেশের টাকায় একশ ২৫ কোটি টাকা খরচ করে আমাদের সবই কিনতে হয়েছে।

কাপড় আনতে হয়, তেল আনতে হয়, আনতে হয়। কোথায় পাব? গরীবের কাছে ওয়াদা করেছিলাম গ্রেপ্তার হওয়ার আগে, এদেশের কৃষক সমাজ যাদের জন্য জীবনভর আমি সংগ্রাম করেছি। ..আমি সংগ্রাম করেছি। আমি বলেছিলাম-_ পঁচিশ বিঘা জমির খাজনা আমি মাফ করে দিব। আমার ওয়াদা আমার জীবনে বরখেলাপ করি না। আমি বললাম, পঁচিশ বিঘা জমির খাজনা মাফ করে দাও। আমার কৃষককে বাচতে দাও । পঁচিশ বিঘা জমির খাজনা আমি মাফ করেছি। কিন্ত আমি

আমার কৃষক ভাইদের কাছে একটা দাবি করেছি- সেটা হলো এই যে, আরো ফসল উৎপাদন করতে হবে । ভিক্ষা নিয়ে কোনদিন কেউ সম্মান নিয়ে বাস করতে পারে না। আমি আমার সাড়ে সাত কোটি লোককে সারাজীবনের জন্য ভিক্ষুকের জাত করতে চাই না। আমি চাই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। একটি শোষণহীন দেশ যে, মানুষ খাবে, সুখে বাস করবে। আমার জীবনের সব বৃথা হয়ে যাবে। আমার ভাইয়েরা, বাংলাদেশের দুঃখি মানুষেরা যদি ভাত না পায়, আমার জীবনের সব সাধনা €স হয়ে যাবে, যদি বাংলাদেশের গরীব না বাঁচে এবং কাপড় না পায়, বাংলার বেকারত্ব দূর না হয় ।

একদিনে হবে না । অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমরা পঁচিশ বতসর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষকদের বিরুদ্ধে ছিলাম । বাংলাদেশকে বাজার করেছিল, মাল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করত। আমার কারখানা করতে হবে, আমার সব উৎপাদন করতে হবে, আমার মানুষকে বাচাতে হবে । খাবার না হলে মানুষ বীচবে না। আপনারা আমাকে দোয়া করেছিলেন। ঘরে ঘরে দোয়া করেছিলেন। মা-বোনেরা আমার রোযা রেখেছিল । মসজিদে মসজিদে আমার জন্য দোয়া হয়েছিল। আমার ছেলেরা বন্দুক নিয়ে খাড়া হয়েছিল, আমার যুবকরা রক্ত দিয়েছিল, আমার মা- বোনেরা ইজ্জত দিয়েছিল।

ত্রিশ লক্ষ বাঙ্গালী আমার শহীদ হয়েছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য আর বঙ্গবন্ধুকে জেলখানা থেকে মুক্ত করার জন্য । আজ আমার দেশ স্বাধীন হয়েছে । আজ আমার পতাকা উড়ে। একশটা দেশ দুনিয়ার- আমার বাংলাদেশকে রিকগনাইজ করেছে, স্বীকৃতি দিয়েছে। দুঃখ আমাদের চীরদিন থাকবে না, আজ আমার বাংলার সম্পদ বাংলায় থাকবে । করাচি-পশ্চিম পাকিস্তান যাবে না। আজ আমার সম্পদ নিয়ে কোথাও যেতে পারবে না, আমার বাংলার সম্পদ আমার বাংলার মানুষ ভোগ করবে । বাংলার সম্পদ বাংলার মানুষ আরাম-আয়েশে খাবার জন্য চেষ্টা করবে। ংসার চলে না ।

পেট ভরে খেতে পারে না। আমার কথায় বন্দুক নিয়ে হয়েছিল। আমার মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল। ওদের ওপর আমার দায়িত্‌ আছে এবং কর্তব্য আছে। ওদেরও বাচবার অধিকার আছে। বড় লোকদের যদি বাঁচবার অধিকার থাকে, গরীব কর্মচারীদের বাঁচবারও অধিকার আছে। তাই…মোচন করে যাতে ওরা দু্টা পয়সা বেশি পায়, তাই আমাদের বন্দোবস্ত করতে হয়েছে। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকরা বেতন কম পেতেন।

তাদের জন্য আমাকে সরকারি স্কুল করে দিতে হচ্ছে। তাদের জন্য সং করেছি। বাংলার গরীব আমার পাশে ছিল। বাংলার. গরীব আমার কাছে ছিল। আমি জেলে গেলে বাংলার গরীব আমার জন্য কানত। তথাকথিত করেছেন। যারা আজও সুযোগ পেয়ে মার দেবার চেষ্টা করেছেন, ওরা আমাদের চেনেন না, ওরা অমাদের জানেন না। আমরা ইয়াহিয়া খান, আর পশ্চিম পাকিস্তানের সৈন্যদের যদি মোকাবেলা করতে পারি- দুঃখ হয়, আমার বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, বাংলার মানুষ শান্তিতে বাস করতে চায়। আমি জানি, বাংলার মানুষ জানে এবং বোঝে যে, আমাকে ভিক্ষে করে আনতে হয়।

আমার দুঃখ হয়, আমি অবাক হয়ে যাই- রক্তের দাগ এখনো মুছে নাই। ধ্বংসলীলা আজও পড়ে আছে। মায়ের চোখের জল এখনো শুকায় নাই। দুঃখ হয় আমার, কি করে মানুষ মানুষকে ঠকাইয়া খায় ? কি করে মানুষ ঘুষ খায় ? কি করে মানুষ দূর্ীতি করে ? কি করে মানুষ গরিবকে রাতে ঘুমাতে দেয় না? কি করে চোর-ডাকাত মানুষকে হত্যা করে ? আমি রিলিফ নিয়ে আসি, বাংলার গরীবদের পাঠাই- কি করে তাই আবার এরা চুরী করে খায় £ বাংলার গরীবকে ঠকায়, এরা অমানুষ, নরপণ্ড, এদের ধ্বংস করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষের, আমি আপনাদের সাহায্য চাই, যেমন করে একদিন আমার কথায় জীবন দিয়েছিলেন, যেমন করে আমি বন্ধি হয়ে গেলেও তোমরা সংগাম চালিয়েছি- আমি দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমি বারবার হতে পারতাম আপনারা জানেন। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীতী আমি নেই নাই। আমি ইয়াহিয়ার ফাসির কাষ্ঠে গিয়েছিলাম, এই বাংলার সাত কোটি মানুষের সাথে আমি বেঈমানী করতে পারি না। আমার রক্ত দিয়ে আমি বাংলার মানুষের খণ শোধ করতে চেয়েছিলাম । ভবিষ্যতে দরকার হলে আরো করা হবে আছে।

আমি একদিন এই ভৈরবের বাজারে বক্তৃতা করেছিলাম, তারা আমাকে বলেছিল- তোমার পিছনে আছি। আজ এই ধূর্ত, এই দৃণীতিবাজ, রাতে যারা হত্যা করে, যারা পাকিস্তানের দালালী করে, যারা বাংলার মানুষদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে- যারা স্বাধীনতাকে নষ্ট করতে চায়, যারা গরিবের মুখের হক শোষে খায় বা লুট করে খায়, তাদের বিরুদ্ধে আবার আমাকে এমন আঘাত করতে হবে। আমি বাংলাদেশের মানুষের সাহায্য চাই। আপনারা আমার সাথে আছেন কিনা হাত তুলে দেখান।

 

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

ভাইয়েরা বোনেরা আমার, আমার ভাই জিলুর রহমান বলেছে যে, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে রাস্তা করে দেবে । জিন্ুর ভাই মনে রাখবা, ভেরবকে তুমি যেমন ভালবাস, তেমনি আমিও ভৈরবকে কম ভালবাসি না। বাংলার প্রত্যেকটা মাটি- আমার মাটি । বাংলার প্রত্যেকটা জায়গা আমার জায়গা । বাংলার প্রত্যেকটা ঘর- আমার ঘর। বাংলার প্রত্যেকটি মা- আমার মা। বাংলার প্রত্যেকটি ছেলে- আমার ছেলে । বাংলার মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্বন্ধ । তোমরা জান ভৈরব থেকে কিশোরণঞ্জের রাস্তার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বৎসরের মধ্যে ইনশাল্লাহ তোমাদের রাস্তা হবে ।

নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে কষ্ট হয়। নদী ভাজছে কত, তোমার জানা আছে যে, বাংলাদেশের মানুষ গান গায়- একুল ভাঙ্গে ও কুল গড়ে, এইত নদীর খেলা । আমরা চেষ্টা করতে পারি। যদি ভিক্ষা করতে হয়, তা হলেও জোগাড় করব ভৈরবের রাস্তা করার জন্য । চেষ্টার ক্রটি করব না। আল্লাহর উপর নির্ভর কর। আল্লাহ সাহায্য করলে যেখান থেকে পারি চেষ্টা করে ভৈরবকে গড়বার চেষ্টা করা হবে। দাবী আমার কাছে করতে হবে না। আমিত প্রথমে বলেছিলাম এসে যে, দাবী কি? আমি বাংলার মানুষকে বলেছিলাম- তিন বৎসর কিছুই দিবার পারব না।

বাংলার মানুষ বলল- তোমার কাছে কিছুই চাই না। তাই বলে কি আমি গ্রামে গ্রামে রিলিফ এনে দেই নাই। তাই বলে কি ৩৮ লক্ষ টন খাবার বিদেশ থেকে আনি নাই। তাই বলে কি আমি গরীব কর্মচারীর বেতন বাড়াই নাই । তাই বলে কি আমি শ্রমিকদের বেতন বাড়াবার বন্দোবস্ত করি নাই । তাই বলে কি যতো ভালো জিনিস আগে ছিল। যা বড় লোকরা উৎপাদন করে তার দাম বেশি, আর গরিব যা উৎপাদন করত তার দাম কম ? এইবার একটু উল্টাইয়া গেছে। গরীব যা উৎপাদন করে, তার দামও বেশি। কারণ এখন ধানের দাম কিছু পাওয়া যায়, তবে বেশি আবার বাড়াইয়া দিলে গরিবের কষ্ট হবে।

কিছু পাটের দাম পাওয়া যায়। এখন নতুন দেশ, মুরগির দাম পাওয়া যায়। লাউয়ের দাম পাওয়া যায়। বেগুনের দাম পাওয়া যায়। পাওয়া যায়, তবে খাবারের দাম বেশি বাড়ানো চলবে না, কারণ গরিবকে বাঁচাতে হবে । তবে ভিক্ষা করে বাচানো যাবে না। খাদ্য উৎপাদন করতে হবে ঘরে ঘরে। আমার বাংলাদেশে দেখেছি, মুরণি পালত, হাস পালত, সবজি উঠাত। আপনারা সেগুলো করতে আরম্ভ করেন। ভিক্ষা করে সাড়ে ৭ কোটি লোককে_ ওরে বাবা, বাচাব কি করে? ভাইয়েরা আজকে আমাদের সৌভাগ্য- শ্রমিক যারা, ইঞ্জিনিয়ার যারা কষ্ট করে এখানে এস্ছেন।

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ । ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ । ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

যারাআমাদের জন্য ২০ মাস কাজ করেছেন_ ভারত সরকার এবং তাদের সহকর্মীদের এবং তাদের কর্মচারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই । আমি জানি আপনাদের, আমি ইরেজ গভর্ণরকেও অভিনন্দন জানাই । আমার তরফ হতে মোবারকবাদ জানাই । আরও মোবারকবাদ জানাই ভৈরবের জনসাধারণকে । যারা কাজ করেছে, যারা সাহায্য করেছে, যারা. সহানুভূতি দেখিয়েছে এই ব্রীজ করার জন্য, আজকে ব্রীজ খুলে যাবে, আমি আজ ফিতা কাটব। ইনশাল্লাহ গাড়ী চলা শুরু হবে। তবে একটা কথা বলতে চাই ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে নৎসাত করার জন্য আবার বিদেশী দালালরা- আমি ক্ষমা করেছি বলে তারা মাথায় উঠে দাড়িয়েছে। লোকে বলে বঙ্গবন্ধু কঠোর হও । বঙ্গবন্ধু পিটাও । বঙ্গবন্ধু হুকুম দাও গুলি করতে। বঙ্গবন্ধু কঠোর হবে, কঠোর ছিল । আমি কেমন কঠোর তা পাকিস্তানীরা ভাল করে জানেন। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম ংলার মানুষ আমাকে যেমন ভালবাসে আমি বললে তারা শুনবে । বাংলার মানুষ আমার কথা শোনে কিন্তু চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী । এই শুরু হয়ে গেছে।

চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী । অনেক আকুতি মিনতি করেছি। ভাইয়েরা বোনেরা আমার, দেশে একটা গাছ লাগালেও € বৎসরের আগে ফল হয় না। ধ্বংসন্তুপ বাংলাদেশকে গড়তে অনেক বছরের প্রয়োজন। তবে একটা কথা বলতে চাই- এই যে মানুষ চুরী করে, এই যে মানুষ ঘুষ খায়, এই যে মানুষ- এরা কারা । আপনার আমার ছেলে পেলে। সোনার মানুষ পয়দা কর ভাই, সোনার মানুষ পয়দা কর। না হলে সোনার ংলা গড়া যাবে না। মানুষ পয়দা করতে হবে, না হলে এদেশকে গড়তে পারব না। তাই আমি বলি ভৈরবের ভাইয়েরা, তোমাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ, মোবারকবাদ, বেশি বক্তব্য দিতে পারব না, অনেক বক্তব্য দিতে হয়েছে রাস্তায়। বয়সও আমার হয়েছে, জেল খাটতে খাটতে প্রায় জীবন শেষ হয়ে গেছে।

Bangabandhu Gurukul

 

আরও পরুন :

“২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ । ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন