১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ । সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালের সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণঃ স্বাধীনতার পর এই রক্ষীবাহিনীর সৃষ্টি হয়। যারা আমার মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিল, যারা স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিল, তাদের নিয়েই এই রক্ষী বাহিনীর জন্ম হয়। দেশের ভিতরে শান্তি-শৃংঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সময়মত দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করার জন্য সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে মিলে তোমাদের কাজ করতে হবে ।

 

১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ । সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১লা সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালের সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালের সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

তোমাদের মানুষকে সেবা করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মা-বোনের রক্তে এই বাংলায় স্বাধীনতা এসেছে । অনেক মা- বোন বেইজ্জতী হয়েছে। অনেক দুধের বাচ্চা শহীদ হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা এনেছি। দরকার যদি হয় রক্ত দিয়ে হলেও এই স্বাধীনতাকে আমাকে রক্ষা করতে হবে। ব্রত। মানুষকে ভালবেসো, মানুষের সেবা করো। বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য বাংলার জনগণের পাশে থেকে তোমরা কাজ কর। যখন তোমাদের হুকুম হবে গ্রামে গ্রামে যাওয়ার, তখন তোমরা কোন নিরাপরাধের উপর অত্যাচার কর না।

দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকো। তোমরা কথা পূর্বে শোনেছ এখনও শোন এ-বিশ্বাস আমার আছে। তাই তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ, তোমাদের কাছে আমাদের আদেশ, যেখানেই যাবা মানুষকে ভালোবাসাবা, মানুষকে সেবার ব্রত নিয়ে যেও। যেখানে অন্যায়, অবিচার দেখবে_ কঠোরভাবে দমন করবে । আর দুঃখী মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের সেবা করবে । মানুষ যেন তোমাদের ভালোবাসে । মাত্র ৩২ মাস স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা, আমরা অনেককে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম যুদ্ধে জারা অন্যায় করেছিল  তাদের ও ক্ষমা করে দিয়েছিলাম কিন্তু চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী ।

যে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা আনা হয়েছে। বিদেশীদের চক্রান্তে তারা আজ দেশের মধ্যে বিশৃখলার চেষ্টা করছে। রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক কর্মী এবং দেশের জনগণকে হত্যা করে গ্রামকে গ্রাম লুট করে। তোমাদের যখন প্রয়োজন পরবে অন্যান্য বাহিনীর সাথে মিলে বাংলার মাটি থেকে এদের উৎখাত করতে হবে। তা না হলে বাংলার মানুষ তোমাদের অভিশাপ দিবে, আমিও মরে শান্তি পাব না। তাই তোমাদের কাছে আমার আবেদন রইলো যে, দুষ্টের দমন এবং যারা ভালো, তাদের ভালোবেসো। মনে রেখ যেমন কঠিন হতে হবে পাথরের মত, তেমনি পলি মাটির মত তোমাদের নরম হতে হবে। যেখানে দুঃখী মানুষ দেখবে… শুধু তা করলে চলবে না।

আমি খুশি হয়েছি, সামরিক বাহিনীর ছেলেরা রক্ষীবাহিনীর ছেলেরা এবং অন্যান্য যারা ছিল, সকলেই এইবার এই যে বন্যার সময় কষ্ট করে সেবা করেছো। এই রকমের জাতীয় দুর্যোগে পারে না। যেই বাহিনীর মধ্যে ডিসিপ্রিন নাই, সেই বাহিনী জীবনে কোন ভালো কাজ করতে পারে না। তারা দেশের সর্বনাশ করে। খবরদার, মনে রেখ, ডিসিপলিন তোমাদের রাখতে হবে, তা না হলে কোন মহত কাজ তোমরা করতে পারবে না। তোমাদের জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল, তোমাদের জন্য আমার স্নেহ রইল, তোমাদের জন্য আমার ভালবাসা রইল।

১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ । সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ । সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 

আমি যেন এই কথা কোনদিন না শুনি যে, তোমরা কারো উপর অন্যায় ভাবে অত্যাচার করে আমি যেন এইটুকুই শুধু শুনতে পাই, তোমরা বাংলার মানুষের দুঃখের দিনে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছ, তাদের ভালোবেসেছ, দুষ্টকে দমন করেছ এবং মানুষকে সাহায্য করেছ। তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ । মনে রেখ বাংলার মানুষেরা দুঃখী, তারা না খেয়ে কষ্ট পায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নানা অবস্থার মধ্যে পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারমধ্যে একদল চোরা কারবারী, ঘুষখোর, দুর্তিনীতিবাজ দেশের মানুষকে আজকে অত্যাচার করছে।

আমি এদের উৎথাত করতে চাই। আমার কথায় তোমরা জীবন দিয়েছিলা, আমার কথায় তোমরা স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিল, আমার কথায় হাসিমুখে মৃত্যু বরণ করেছিলা | আমি তাই তোমাদের যেমন আদেশ করছি, অনুরোধ করছি, তেমনি আজ দেশবাসী সকলকে আমি বলব, একতাবদ্ধ হয়ে এই সমস্ত যারা আজ দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, যারা আজ দুঃখী মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে, যারা বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়ে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করে দাও।

মুক্তিবাহিনীর ভায়েরা , রক্ষীবাহীনির জোয়ানরা তোমাদের – কাছে আমার হুকম রইল, খবরদার, সৎপথে থেকো, মুখ আমার উজ্জল করিও, জাতি উজ্জল হউক। মানুষ তোমাদের ভালবাসবে । দেশ তোমাকে ভালোবাসে, বিশ্ব সভা তোমাকে ভালবাসবে । তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নিবার আগে, তোমাদের সকলকে নানা কষ্টের মধ্যে, নানা অসুবিধার মধ্যে, সামান্য সময়ের মধ্যে তোমরা এবং তোমাদের কমাভাররা যেভাবে শৃংখলার সঙ্গে কাজ করেছ, তাতে আমার বুক আজ গর্বে তুলেছে। তোমাদের আমি আত্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

খোদা হাফেজ । জয় বাংলা ।

Bangabandhu Gurukul

 

আরও পরুন :

 

“১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ । সাভারে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর ৪র্থ দলের শিক্ষা সমাপনি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন